নিরাপদ শৈশবই শিশুর স্বপ্ন পূরণের প্রথম শর্ত: জুবাইদা রহমান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-০৬ ১৫:২৭:৩৮
image

প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে শিশুরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে এগিয়ে যেতে পারবে।
মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই সম্ভাবনা ও প্রতিভা রয়েছে। সেই প্রতিভা প্রকাশ ও বিকাশের জন্য তাদের উপযুক্ত পরিবেশ এবং সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শিশুদের শৈশবকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি তাদের সামনে এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নতুন উদ্যমে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ দশক ধরে শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখে চলেছে। ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বহু শিশুর সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে তাঁর সরকার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিল।
শিশু একাডেমিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের শিশুর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের সংযোগ বাড়াতে হবে। তাঁর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও শিশু একাডেমি শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সব বাধা পেরিয়ে তাদের নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে হবে। নতুন উদ্যম ও উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তারা সফল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর শৈশব নিরাপদ হোক এবং প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হোক—এটাই সবার প্রত্যাশা।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে তাঁরা শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র গ্যালারি পরিদর্শন করেন।

নিরাপদ শৈশব, শিশু প্রতিভা, শিশু একাডেমি