ইছামতীর জলে ধোয়া আমাদের এই মাটি,
ধানখেতের আইলে যার জন্ম,
সে তো রূপকথা খোজে না;
সে খোজে বোরো আর আমনের অমোঘ শস্যলিপি।
কমলাপুর থেকে শিয়ালদহ—
এই দুই বাংলার নদীমাতৃক মানচিত্রে
আজ কার হাতের ইশারায় ওড়ে নিত্যপণ্যের ধোঁয়া?
চাল-ডাল আর তেলের বাজারে
কৃষকের ঘামে ভেজা পিঠে কিসের এই লুটেরা বাজার?
ঢাকার কাগজ হোক কিংবা কলকাতার পাতা—
খুললেই দেখি শুধু বোমাবাজি, কাড়াকাড়ির আর্তনাদ;
অথচ জামতলার ছায়ায়, পাটের আড়তে
আজও বেজে ওঠে আবহমান বাংলার সোনালি গান।
শুনছো কি, হে মানচিত্রের কারিগর?
রাজনীতির মারপ্যাঁচ বহু হলো।
ষএবার সরষে ফুলের হলুদ গায়ে হাত রেখে বলো—
মাটির ফুঁড়ে বের হওয়া আলুর শেকড়ে
কোন মন্ত্রীর আঙুল চলে?
এ তো মাটির নিজস্ব প্রতিবাদ, প্রকৃতির শাশ্বত দলিল।
রক্তমাখা সীমারেখা দিয়ে যাদের কারবার,
তারা কি জানে—
একটা আমলকি গাছ আর বোরো ধানের নাড়ি পোঁতা আছে
এই মাটির গভীরে, অভিন্ন প্রাণের নাগরদোলায়?
ফসলের চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই,
মাটির চেয়ে পবিত্র কোনো রাষ্ট্র নেই।