হা সা ন মো ছা দ্দি ক

  • পুরুষের নীরব কষ্ট:
  • ২০২৬-১০-০৬ ১১:৪৩:২৭
image

দায়িত্ব, ভালোবাসার অভিনয় ও পারিবারিক নির্যাতনের অদৃশ্য রূপ
সমাজে “নির্যাতন” শব্দটি উচ্চারিত হলে সাধারণত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে শারীরিক আঘাত, অপমান, ভয় দেখানো কিংবা প্রকাশ্য সহিংসতার দৃশ্য। কিন্তু নির্যাতনের সব রূপ দৃশ্যমান নয়। কিছু নির্যাতন শরীরে দাগ ফেলে না, অথচ মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। কিছু কষ্টের কোনো সাক্ষী থাকে না, কোনো অভিযোগপত্র তৈরি হয় না, কোনো আদালতে তার প্রমাণ সহজে হাজির করা যায় না। বিশেষ করে পুরুষের মানসিক ও পারিবারিক কষ্টের একটি বড় অংশ অনেক সময় নীরবতার আড়ালে থেকে যায়।
উক্তিতে যে পুরুষের কথা বলা হয়েছে, তিনি এমন একজন মানুষ, যিনি দিন-রাত পরিশ্রম করেন সংসার ও পরিজনদের একটু ভালো রাখার জন্য। তাঁর শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের ভবিষ্যৎ, সন্তানের প্রয়োজন, দৈনন্দিন ব্যয়, সামাজিক দায়িত্ব এবং নিজের নানা অপূর্ণতা। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে করতে যদি তিনি এমন এক সম্পর্কে আটকে পড়েন, যেখানে তাঁর শ্রমকে স্বাভাবিক কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাঁর অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, ভালোবাসার পরিবর্তে কৃত্রিম আবেগের প্রদর্শন চলে, অথবা তার অর্থনৈতিক ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হয়—তবে প্রশ্ন ওঠে, এটিকে কি পুরুষ নির্যাতনের একটি রূপ বলা যায় না?
এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে প্রথমেই একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন—নির্যাতন কোনো এক লিঙ্গের একচেটিয়া অভিজ্ঞতা নয়। নারী যেমন নির্যাতনের শিকার হতে পারেন, পুরুষও হতে পারেন। একইভাবে পুরুষ নির্যাতনের কথা বলা মানে নারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের দায়িত্ব হলো- যে মানুষই নির্যাতনের শিকার হন, তাঁর কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়া।
তবে পুরুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও জটিল হয়, কারণ সমাজে পুরুষকে প্রায়ই “শক্ত”, “সহনশীল”, “উপার্জনক্ষম” এবং “দায়িত্বশীল” হওয়ার প্রত্যাশার মধ্যে রাখা হয়। ফলে অনেক পুরুষ নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। তাঁকে বলা হয় “পুরুষ মানুষ, এত কিছু ভাবলে চলে?” এই মানসিকতা পুরুষের কষ্টকে আরও নীরব করে দিতে পারে।