মান্দা এলজিইডি প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনে নাইটগার্ড,সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ

  • নওগাঁ থেকে মোঃ রিমন আহমেদ
  • ২০২৬-১০-০৫ ২১:৩৯:৫৮
image

নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে বিভিন্ন রাস্তার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা, অশোভন আচরণ এবং ক্যামেরায় থাকা গণমাধ্যমের বুম বা লোগো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের এবং কার্যালয়ে কর্মরত নাইটগার্ড রেজাউল ইসলাম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে আনন্দ টেলিভিশন, মোহনা টেলিভিশন, গ্লোবাল টেলিভিশন, দেশ বর্তমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে যান।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে পাঠান। ওই ব্যক্তি নিজেকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার বুম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল ইসলাম ওই কার্যালয়ের একজন নাইটগার্ড। এ অবস্থায় দিনের বেলায় তাঁর দায়িত্ব কী এবং কীভাবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্বে ছিলেন-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের কিছু দায়িত্ব নিজে পালন না করে নাইটগার্ড রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। বিষয়টি সত্য কি না এবং রেজাউল ইসলামকে কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজে একজন নাইটগার্ডের ভূমিকা থাকলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। বরং রেজাউল ইসলামকে সামনে পাঠানোর পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, সরকারি দপ্তরে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ থাকা স্বাভাবিক। কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে না চাইলে তা সরাসরি জানাতে পারেন। তবে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা বা ক্যামেরার সরঞ্জামে হাত দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রেজাউল ইসলামের প্রকৃত পদ ও দায়িত্ব, দিনের বেলায় তাঁর দায়িত্ব পালনের কারণ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বা ক্যামেরার বুম সরানোর ঘটনায় তিনি কারও নির্দেশ পেয়েছিলেন কি না-এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলছি। সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্য নেবে-এটাই স্বাভাবিক।”
সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।