সুশাসনের ভিত্তি শক্ত করতে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কারের তাগিদ

  • মাশিয়াত আবেদিন
  • ২০২৬-১০-০৫ ১৯:১২:৫৪
image

নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, নাগরিকের সঠিক পরিচয় সংরক্ষণের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, বাজেটের ন্যায্য বণ্টন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নির্ভুল নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীকাল ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬। এবারের প্রতিপাদ্য-নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের গড় হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিবন্ধনের বাইরে থাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন।
সময়মতো ও নির্ভুল নিবন্ধন না থাকায় শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও মানবপাচারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধন না থাকলে উত্তরাধিকার নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয় এবং আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আশঙ্কা বাড়ে। গ্রাম, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও নগরের বস্তিতে মৃত্যু নিবন্ধনের হার তুলনামূলকভাবে কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জনে ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার প্রয়োজন। পরিবারের ওপর একক দায়িত্ব না রেখে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এতে তথ্যের ভুল ও বিকৃতির সুযোগ কমার পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধন প্রতিরোধ এবং নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১৬.৯ অর্জনও দ্রুততর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নাগরিকদের নির্ভুল ও সর্বজনীন তথ্য সংরক্ষণ। ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়া হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সুশাসন, আইন সংস্কার