মহেশখালী (কক্সবাজার)
কৃষকের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। ‘কৃষক কার্ড হাতে থাকলে, সেবা পাবেন সাথে সাথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ফেনীর ফুলগাজী থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয় দেশের বিভিন্ন উপজেলা।
এর অংশ হিসেবে মহেশখালী উপজেলা পরিষদের পুরাতন হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান। কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে মহেশখালীতেও কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় উপকারভোগী কৃষকেরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
কৃষকের জন্য এক কার্ডে একাধিক সেবাঃ-
কৃষক কার্ডকে শুধু একটি পরিচয়পত্র হিসেবে নয়, কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সেবা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার। সরকারি কৃষক কার্ড পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, কার্ডের মাধ্যমে কৃষি
উপকরণ,সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা,সেচ,কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র কৃষি ও মৎস্য খাতের সুবিধা,বীমা, প্রশিক্ষণ এবং আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলা ও ১৪ হাজার ১৮০টি কৃষি ব্লকে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়েছে। চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষকের লক্ষ্য, কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন,চলতি বছর পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে ১ লাখ ৪৭ হাজার কৃষককে কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন। উদ্বোধনী কার্যক্রমে দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়।
মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ,কৃষককার্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারি সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কৃষকের তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হলে প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ ও অন্যান্য সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি একই কৃষকের নামে একাধিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরকারি কৃষক কার্ড পোর্টালেও কৃষি সেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে স্বচ্ছতার সঙ্গে কৃষকদের কাছে সেবা পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীর কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার
কৃষিনির্ভর মহেশখালীতে কৃষক কার্ড কার্যক্রম স্থানীয় কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান, লবণ, সবজি ও অন্যান্য কৃষিকাজের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত রয়েছেন।ফলে কৃষি উপকরণ
প্রণোদনা, সেচ, ঋণ, প্রশিক্ষণ ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য একীভূতভাবে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কার্ড বিতরণের পর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে কার্ড ধারী কৃষক কতটা সহজে এবং সরাসরি সেবা পাচ্ছেন, প্রণোদনা ও উপকরণ বিতরণে কতটা স্বচ্ছতা থাকছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কতটা কার্যকর ভাবে সমন্বয় করছে তার ওপর।
মহেশখালীতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কৃষকবান্ধব হবে এমন প্রত্যাশা রয়েছে
সংশ্লিষ্টদের। জাতীয় পর্যায়ে শুরু হওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত কৃষককে শুধু সহায়তা দেওয়া নয়; বরং কৃষকের পরিচয়, উৎপাদন, সরকারি সুবিধা ও প্রয়োজনীয় তথ্যকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। সেই অর্থে মহেশখালীতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষিসেবা পাওয়ার পদ্ধতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।