অযৌক্তিক প্রকল্প বিলম্বে কঠোর জবাবদিহির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-২৯ ২৩:২২:২০
image

যৌক্তিক কারণ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে থাকা পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। সেই কারণ কঠোরভাবে যাচাই করার পরই মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে আরও গভীর ও কারিগরিভাবে নির্ভুল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা কমবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সমন্বয় করা বাজেট যথাসময়ে প্রকল্প প্রস্তাবে প্রতিফলিত হয়নি। এ বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে এসব প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য।
এ ছাড়া ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এক নাগরিক, এক নম্বর, এক মানিব্যাগভিত্তিক ব্যবস্থা রয়েছে।
এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোর পারস্পরিক সংযোগ বাড়ানো, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

উন্নয়ন প্রকল্প, জবাবদিহি, একনেক