চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি বসতবাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায় নি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টার দিকে নারায়ানপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ৮ নং ওয়ার্ডের জোহরপুর নরশিয়া গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে মো.এহুর(৪৭) সেমিপাকা বসতবাড়ির একটি ঘরে মজুদ করা একাধিক ককটেল একযোগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে ঘরটি বিধস্ত হয়। এ সময় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পদ্মার চরের ওই গ্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প থেকে তাৎক্ষনিকভাবে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন,ওই ঘরে মাটির নীচে পুঁতে রাখা ১৫/২০ টি ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হলে এলাকায় জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হতাহতের কোন তথ্য পাওয়া যায় নি এবং কেউ আটক হয় নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন,ওই বাড়ির মালিক এহু মাছ ব্যবসায় জড়িত। ওই এলাকায় কয়েকদিন যাবৎ প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’গ্রুপের উত্তেজনা চলছিল। আব্দুর রশিদ কালু এবং বাঘা নামে দুই ব্যাক্তির নেতৃত্বে দু’গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। এহু (যার বাড়িতে বিস্ফোরন) বাঘা গ্রপের সাথে জড়িত। এদিকে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি শঙ্কায় রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) প্রতিবেদনও দেয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে ,ওই উত্তেজনার কারণেই একসাথে প্রচুর ককটেল মজুদ করা হয় যা বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার সাথে কোন রাজনৈতিক সংশ্লিস্টতা নেই বলেও জানান চেয়ারম্যান।
সংশ্লিস্ট ইউপি সদস্য মো.রবু বলেন,জোহরপুর মাঠপাড়া এলাকায় ভারতের বিলের পানি একটি খাঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশে পদ্মা নদীতে নামে। মৌসুমের এই সময় ওই খাঁড়িতে জাল দিয়ে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এখন খাঁড়িটি বাঘা-এহুর দখলেই রয়েছে। ওই খাঁড়ি দখলদারিত্বের উত্তেজনা থেকেও ককটেল মজুদের ঘটনা হতে পারে বলে জানান ইউপি সদস্য রবু। বর্তমানে এহুর বাড়ি তালা দেয়া এবং বাড়িতে কেউ নেই বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন,কোন রাজনৈতিক কারণে ওই ঘটনা ঘটে নি।