অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মহেশখালীর অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি ফরিদ,ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-২৮ ১৮:৫৬:০৪
image

মহেশখালী (কক্সবাজার)
অতিবৃষ্টির ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই ঘর মেরামত ও স্বাভাবিক   জীবনে   ফেরার    অনিশ্চয়তায়    পড়েছে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলো। কোথাও ঘরের চাল ক্ষতিগ্রস্ত, কোথাও  বসতঘরে ঢুকেছে বৃষ্টির পানি। টানা বৃষ্টিতে  নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এমন  পরিস্থিতিতে  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক   পুনর্বাসনে   সহায়তার   হাত  বাড়িয়েছেন কক্সবাজার-২(মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মহেশখালীতে আয়োজিত  এক   কর্মসূচিতে  অতিবৃষ্টিতে   ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়  পরিবারের  হাতে  ঢেউটিন ও নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি।দুর্যোগের পর ঘরবাড়ি মেরামত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর  জরুরি  প্রয়োজন মেটাতে এ সহায়তা দেওয়া হয়।
দুর্যোগের  পর  নতুন  সংকট, মহেশখালীর  মতো
উপকূলীয়  ও   দ্বীপাঞ্চলে  অতিবৃষ্টির প্রভাব শুধু সাময়িক জলাবদ্ধতার  মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অতিরিক্ত  বৃষ্টিতে   বসতঘর, সড়ক, কৃষিজমি ও দৈনন্দিন  জীবনযাত্রায়  এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ 
করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ঘরের চাল 
বা কাঠামো   ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়া  মানে নতুন করে আর্থিক সংকটে পড়া।
এই বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে সরাসরি ঢেউটিন   ও   নগদ   অর্থ  পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে জরুরি পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক  সময়ে  দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন ও নগদ সহায়তা দেওয়ার   কর্মসূচিও   পরিচালিত   হয়েছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির   সমন্বিত   উপস্থিতি   সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতে   সংসদ    সদস্যের   পাশাপাশি  উপজেলা প্রশাসনের  কর্মকর্তারাও  উপস্থিত   ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান   মাহমুদ   ডালিম,  সহকারী   কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত আহমেদ,উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা,উপজেলা এলজিইডি  প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া স্থানীয়    বিএনপির    বিভিন্ন     পর্যায়ের    নেতৃবৃন্দও কর্মসূচিতে   উপস্থিত   ছিলেন।  দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকারি   প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি   ও  স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক-রাজনৈতিক   নেতৃত্বের    সমন্বিত   উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত   মানুষের   কাছে   সহায়তা  পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কর্মসূচিতে   উপজেলা  প্রশাসনের  কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
শুধু ত্রাণ  নয়,প্রয়োজন   টেকসই  পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের   হাতে   ঢেউটিন  ও  নগদ   অর্থ পৌঁছানো তাৎক্ষণিক   সংকট   মোকাবিলায়   সহায়ক    হলেও দুর্যোগপ্রবণ   মহেশখালীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।বিশেষ করে অতিবৃষ্টিতে বারবার  ক্ষতিগ্রস্ত   বসতবাড়ি, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ও স্থানীয়   অবকাঠামোর   দুর্বলতা   চিহ্নিত   করে স্থায়ী সমাধানের    উদ্যোগ    নেওয়া    জরুরি।  স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত   পরিবারগুলোর    তালিকা    প্রণয়ন, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি   নিরূপণ, জরুরি   খাদ্য  ও   চিকিৎসাসেবা, বসতঘর পুনর্নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এসব বিষয়ে   সমন্বিত    পদক্ষেপ  নেওয়া   গেলে  দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি   প্রভাব   কমানো  সম্ভব  বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
‘সংকটে মানুষের পাশে থাকার’ বার্তাঃ-
সহায়তা   বিতরণকালে    সংসদ    সদস্য   আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার কথা জানান। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ   লাঘবে    প্রয়োজনীয়   সহযোগিতা   অব্যাহত রাখার   প্রত্যয়   ব্যক্ত  করেন   তিনি। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া   ক্ষতিগ্রস্ত   পরিবারগুলোর   জন্য  এ সহায়তা তাৎক্ষণিক   স্বস্তির   পাশাপাশি   ঘরবাড়ি  মেরামতের কাজে   ব্যবহার   করার   সুযোগ   তৈরি   করবে। তবে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং আরও কত পরিবার সহায়তার   বাইরে রয়েছে  তা নিরূপণ  করে প্রয়োজন অনুযায়ী   পরবর্তী   সহায়তা  নিশ্চিত করাই এখন বড় বিষয়।  উপকূলীয়  দ্বীপ মহেশখালীতে অতিবৃষ্টিজনিত দুর্ভোগ নতুন নয়।  ফলে   এককালীন  সহায়তার পাশা পাশি   দুর্যোগ   সহনশীল    ঘরবাড়ি, কার্যকর    পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা,  ক্ষতিগ্রস্ত  সড়ক সংস্কার এবং আগাম সতর্কতামূলক  ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে স্থানীয়দের।