ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের উপকণ্ঠে সৌদি আরবের বিমান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই রোববার এ হামলার খবর পাওয়া গেল।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি যুদ্ধবিমান তাইজের একটি বাজারে দুটি হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ জন নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে নিহত ও আহতের আলাদা সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি।
এর আগে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানিয়েছিল, হামলায় সাতজন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরে হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। হুথিদের কয়েকটি সূত্র পরে এএফপিকে জানায়, হামলায় প্রায় ৩০ জন হুথি যোদ্ধা ও আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
হামলার পর প্রচারিত ছবি ও ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি যানবাহন এবং একটি গুদাম দেখা গেছে। তবে এসব তথ্য ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তাইজ বর্তমানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে শহরটি হুথিদের অবরোধ ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। দেশটির গৃহযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকা হিসেবেও তাইজ পরিচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে সংঘাত আবারও বাড়ছে। এর আগে কয়েক বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাতের প্রভাবে জুলাই থেকে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেপ্টেম্বরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার সৌদি আরব জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে অগ্রসর হওয়া হুথিদের দুটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ প্রতিহত করা হয়েছে। এর পরদিন রিয়াদের স্কুলগুলো এক সপ্তাহের জন্য দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে পাঠদানের ঘোষণা দেয়। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেন এখনো গভীর মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।
ইয়েমেন, তাইজ, হুথি