মাটির মা ফাউন্ডেশনের যুগপূর্তি উৎসবে সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনমেলা

  • মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • ২০২৬-০৯-২৬ ২২:৪৪:৪৬
image

টাঙ্গাইলের মধুপুর শালবনবিহারের চুনিয়া কটেজে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাটির মা ফাউন্ডেশনের যুগপূর্তি উপলক্ষে মায়ের ঘর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬। শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সাংবাদিক ও কবি বাদল চৌধুরী উৎসবের উদ্বোধন করেন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবি মতিয়ারা মুক্তার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ,সাংবাদিক কাজী রফিক ও কবি মাহমুদ কামাল।
এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরকার জাকির হোসেন,মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক। উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় তিন শতাধিক কবি, শিল্পী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক বাদল চৌধুরী বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মাটির মা ফাউন্ডেশন আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। একটি ছোট বীজ থেকে সংগঠনটি ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হয়েছে। মানবিকতা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে টাঙ্গাইলের শালিয়াবহ থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম এখন দেশ-বিদেশে বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, মাটির মা ফাউন্ডেশন শুধু একটি নাম বা সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং মানুষের হৃদয়ে ফিরে যাওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রয়াস হিসেবে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, মাটির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং স্রষ্টার স্মরণেই মানুষের মুক্তির পথ নিহিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মাটির মা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তিনি নিজের পারিবারিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর চাচা গীতিকবি লোকমান হোসেন ফকির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং সারাজীবন সংগীতচর্চায় নিবেদিত ছিলেন।
এবারের যুগপূর্তি উৎসব লোকমান হোসেন ফকিরের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করায় সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ জনকল্যাণমূলক ভালো উদ্যোগে তাঁর পরিবারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
মাটির মা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন,এলাকার সন্তান মতিয়ারা মুক্তা দেশ ও মানুষের কল্যাণে যে উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছেন, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা করেন। মাটির মা ফাউন্ডেশনের আলোকযাত্রা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কবি মতিয়ারা মুক্তা বলেন, এক যুগ আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরুর সময় তাঁর হাতে কোনো মূলধন, কার্যালয় কিংবা বড় পরিকল্পনা ছিল না। ছিল সাহস, স্বপ্ন এবং মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়।
এক যুগের পথচলায় নানা প্রতিকূলতা, ভাঙন ও না-পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক কঠিন সময় এলেও তাঁরা কখনো কাজ থেকে সরে যাননি। যুগপূর্তির এই আয়োজনে দীর্ঘ বক্তব্যের পরিবর্তে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আগামী দিনের জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
উৎসবে মঞ্চটির নামকরণ করা হয় কবি রফিক আজাদ মঞ্চ। পুরো আয়োজন উৎসর্গ করা হয় সুরসাধক ও গীতিকবি লোকমান হোসেন ফকিরের স্মৃতির প্রতি।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, লোকমান হোসেন ফকির ও সুফিকথন নিয়ে দুটি পৃথক সেমিনার, আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, যাদু প্রদর্শনী এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লাঠিখেলা। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের নানা পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মধুপুরের শালবনবিহারের চুনিয়া কটেজ।

মাটির মা, সাহিত্য উৎসব, যুগপূর্তি