ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় মহেশখালী পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রম বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ ছিটানো

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-০৯-২৪ ২০:১১:২৯
image

মহেশখালী (কক্সবাজার)
ডেঙ্গুসহ   মশাবাহিত   রোগের   ঝুঁকি   মোকাবিলায় মহেশখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা  করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)  পৌরসভার  উদ্যোগে  বিভিন্ন   গুরুত্বপূর্ণ এলাকা,সড়ক,ড্রেন-নালা ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো হয়।
বর্ষা-পরবর্তী   সময়ে  বিভিন্ন  স্থানে  জমে  থাকা  পানি মশার  বংশবিস্তারের   অনুকূল  পরিবেশ  তৈরি করতে পারে। এ কারণে শুধু ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল   চিহ্নিত   করে  তা   অপসারণ, ড্রেন-নালা পরিষ্কার  রাখা এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  দেশজুড়ে    ডেঙ্গুর   উদ্বেগজনক পরিস্থিতিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডের সর্বশেষ প্রকাশিত  তথ্যে   দেখা যায়,  ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ২৪  সেপ্টেম্বর সকাল  ৮টা পর্যন্ত  হিসাবের জন্য প্রকাশিত  আগের  দিনের  ২৪  ঘণ্টায়  দেশে ১ হাজার ৮৬৮  জন   ডেঙ্গু   রোগী  শনাক্ত  এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ  পরিস্থিতিতে  স্থানীয় পর্যায়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে  জনস্বাস্থ্য  সুরক্ষার  গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহেশখালী উপজেলাতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও  সচেতনতামূলক   কার্যক্রম  জোরদার  করার  তথ্য পাওয়া গেছে। ১২ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা  অভিযানের  অংশ  হিসেবে মহেশখালী পৌরসভাসহ   বিভিন্ন   ইউনিয়ন  ও   শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা   কার্যক্রম  পরিচালনার  কথা স্থানীয়ভাবে জানানো হয়।
শুধু ওষুধ ছিটালেই কমবে না মশা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দের মতে,মশক নিধনে রাসায়নিক প্রয়োগেরপাশাপাশি মশার   প্রজননস্থল   ধ্বংস   করা   অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ,   বারান্দা, পরিত্যক্ত   পাত্র, ডাবের খোসা, ফুলের টব,  নির্মাণাধীন  স্থাপনা,  ড্রেন  ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই পৌর  এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তা  কার্যক্রমের  পাশাপাশি  নাগরিকদেরও  নিজ নিজ বাড়ি  ও   আশপাশে   জমে    থাকা  পানি  অপসারণে ভূমিকা   রাখতে   হবে।  মহেশখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়   মশক   নিধন   কার্যক্রম  পরিচালনার ফলে স্থানীয়   বাসিন্দাদের  মধ্যে  স্বস্তি  দেখা  দিয়েছে। তবে নাগরিকদের দাবি, একদিনের অভিযান নয় পরিকল্পিত ভাবে নিয়মিত মশক  নিধন, ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন   এবং   মশার   প্রজননস্থল  ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
নিয়মিত  নজরদারি  প্রয়োজন, স্থানীয়দের মতে, পৌর এলাকার বিভিন্ন ড্রেন, নালা ও পানি জমে থাকার স্থান নিয়মিত   পর্যবেক্ষণের   আওতায়   আনা   প্রয়োজন। বিশেষ  করে বর্ষার পর  কোথায়   কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় মশার  লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন এলাকাগুলোতে   মশার   উপদ্রব  বেশি  এসব তথ্যের ভিত্তিতে  এলাকাভিত্তিক  কর্মপরিকল্পনা নেওয়া গেলে মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।একই সঙ্গে   বাসাবাড়ি   ও   ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের  মালিকদেরও নিজ   নিজ   প্রতিষ্ঠানের   আশপাশ   পরিষ্কার  রাখার আহ্বান   জানানো    প্রয়োজন।    পৌর     কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের   সমন্বিত   উদ্যোগেই  মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
নাগরিক  সচেতনতাই  বড় প্রতিরোধ, মশক নিধন কার্যক্রমকে সফল করতে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর  ওপরও  গুরুত্ব   দেওয়া  হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া,নিয়মিত পানির পাত্র  পরিষ্কার  করা, ড্রেন  ও  নালা  আবর্জনামুক্ত রাখা এবং জ্বর  বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।মহেশখালী পৌরসভার আজকের মশক নিধন  কার্যক্রমকে   তাই  শুধু ওষুধ ছিটানোর কর্মসূচি হিসেবে  না  দেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য   ব্যবস্থাপনার  অংশ  হিসেবে  দেখার দাবি উঠেছে। নিয়মিত অভিযান, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা   গেলে মশাবাহিত   রোগের ঝুঁকি  মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।