সাতক্ষীরায় এসডিজি অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ ও অর্থায়নের দাবি

  • এস এম মহিদার রহমান,
  • ২০২৬-০৯-২৪ ১৮:৩৯:৩২
image

সাতক্ষীরা :
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র চার বছর বাকি। অথচ এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৯ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে বলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এসডিজি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং উপকূলের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
‘গ্লোবাল অ্যাকশন উইক’ উপলক্ষে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক নাগরিক সম্মিলনে এসব দাবি উঠে আসে। জিক্যাপ (GCAP), এসডিজি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ, এনআরডিএস ও স্বদেশের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মিলনের আয়োজন করা হয়।
স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মিলনে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সিডোর নির্বাহী পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ আঃ হামিদ, শিক্ষাবিদ কিশোরী মোহন সরকার, জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু আফ্ফান রোজ বাবু, নাগরিক নেতা আলীনুর খান বাবুল, উন্নয়নকর্মী শাকিবুর রহমান বাবলা, যুব প্রতিনিধি ইমতে জামিল, বায়েজিদ গহাসেন, কিশোরী প্রতিনিধি নুরজাহান ময়না, ইদিচীর আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান, নাগরিক প্রতিনিধি পবিত্রমোহন দাস, সাংবাদিক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার, আমিনা বিলকিস ময়নাসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সম্মিলনে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও বৈষম্যের ক্ষেত্রে দেশজুড়ে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে তা আরও প্রকট। জলবায়ু ঝুঁকি, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের কারণে উপকূলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী উন্নয়নের সুফল থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এসডিজি অর্জনে আগামী চার বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন শুধু পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উপকূলীয় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আলোচকরা এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা, হতদরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, আদিবাসী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কোন লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে।
সম্মিলন থেকে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।