অ র্চ না মা লা কা র

  • পরশ্রীকাতরতা
  • ২০২৬-০৯-২৪ ১৪:৫৮:৫২
image

আশ্বিনের সকালে নরম রোদ
পাতার আড়ালে পাখির কলরব,
আঙিনায় তিনটি শালিক ডানা ঝাপটায়।
আদুরে শিউলি লুটিয়ে পড়েছে
শিশির সিক্ত সবুজ ঘাসে,
কুলবধূ ডালা হাতে কুড়ায় ফুল
দেবতার চরণে অর্ঘ্য দিতে।
বেলকনিতে ইজিচেয়ারে দোল খায় বাবু,
দেওয়ালে আঁটা গনেশের ছবি--
ভক্তি কতটুকু আছে সেই জানে।
নাকের ডগায় চশমা হাতে খবরের কাগজ,
সামনে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ --
এই তো তার নিত্য দিনের রুটিন।
অদূরে দাঁড়িয়ে দুটি শিশু
দু'হাতে চোখ রগড়িয়ে হাই তোলে,
এখনো ঘুম কাটেনি পুরোপুরি।
মা বইয়ের ব্যাগ হাতে অপেক্ষায়,
প্রাইভেটের সময় বয়ে যায়।
বাবু মুখ বাঁকিয়ে বলে-ভুতের মুখে রাম নাম।
ওদের আবার পড়াশোনা !
মা-বাবা তো পরের বাড়ি খেটে খাবার জোগায়--- 
কথায় বলে-কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন।
লেখাপড়া শেখায় কোনো বিভেদ নেই
সে বোধ তার নেই,অর্থবিত্তে তো সব হয় না
ছেলে দুটো তো ফুলবাবু।
পরশ্রীকাতরতায় চোখ দু'টো জ্বলজ্বল করে।
ওদের মা না-বোঝার ভান করে এগিয়ে দেয় ছেলেদের,
মনে মনে ভাবে,মানুষের কথায় কী আসে যায়
ওরা মানুষ হলেই হলো,
কে বলতে পারে ওরা একদিন হবে না দেশের কর্ণধার,
তাঁর উপরেই ছেড়ে দিয়েছি ওদের ভূত-ভবিষ্যৎ।