বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-২৪ ১০:১০:০৮
image

দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এর আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী,নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮। 
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুরসহ যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণ ও নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনায় স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা, কৃষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির বিষয় গুরুত্ব পায়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও জানান তিনি। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন,‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’
চার দিনের জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর আরও দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বোয়িং, বিমান বাংলাদেশ, উড়োজাহাজ