চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ মাসের শিশু অপহরণের ৩৩ ঘন্টা পর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার,দম্পতি গ্রেপ্তার

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৯-২৩ ২১:২৮:১৩
image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে অপহরণের ৩৩ ঘন্টার মধ্যে নাফিজ নামে  ১১ মাসের এক শিশুকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বাবা-মা’র নিকট ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে নি:সন্তান এক দম্পতি। নাফিজ শাহাবাজপুর ইউনিয়নের হাজারবিঘি গ্রামের রিক্সাভ্যান চালক রুবেল হোসেন(২৮) ও নিপা খাতুন(২৫) দম্পতির ছেলে।  ওদিকে গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন একই গ্রামের মো. মানিকুজ্জমান (৩২) ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী সুজিয়ারা বেগম(৩৫)।
বুধবার(২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত বর্নণা করেন। তিনি বলেন, গত সোমবার(২১ তারিখ)  সকাল পৌনে ১১টার দিকে শয়নকক্ষে ছেলে নাফিজকে শুইয়ে রেখে রান্না করছিলেন নিপা। পরে দুপুর ১২ টার দিকে ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন  নাফিজ নাই। এ সময় তিনি স্বামী রুবেলকে খবর দিলে রুবেল ছেলের খোঁজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর ১১ বছরের প্রতিবন্ধী ভাতিজি শিরিন খাতুন  ঘর থেকে নাফিজকে নিয়ে  হাজারবিঘি বাজারে কেক কিনতে যাবার সময় সড়কের উপর থেকে একজন অজ্ঞাত বোরকা পরিহিত নারী নাফিজকে তার নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেক খুঁজেও না পেয়ে ওই রাতে শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ ও পরদিন মঙ্গলবার(২২ সেপ্টেম্বর) মামলা করেন রুবেল।
এদিকে পুলিশ অভিযোগ পেয়েই নাফিজকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। এই ধরাবাহিকাতায় মঙ্গলবার বিকালে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে শিবগঞ্জ  বাজার থেকে  প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় রুবেল ও নিপা দম্পতির প্রতিবেশী ও আত্মীয় সুজিয়ারাকে। পরে তাঁর স্বীকারোক্তিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা এলাকায় সদ্য ভাড়া করা  একটি বাড়ি থেকে নাফিজকে উদ্ধার এবং  সুজিয়ারার দ্বিতীয় স্বামী মানিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও  জিজ্ঞাসবাদের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, নিজের আগের সংসারে ১৪  বছরের নি:সন্তান সুজিয়ারা ও নিজের আগের সংসারে ১১ বছর নি:সন্তান মানিকুজ্জামান দম্পতি মাত্র মাস খানেকব পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে  করে শিশুটিকে লালন পালনের লোভে  অপহরণ করেন।
এ ঘটনায় আসামীদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। ব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান,মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক সৌরভ কুমার দত্ত  উপস্থিত ছিলেন।