ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) হত্যা:নষ্ট সমজের চালচিত্র

  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) জিএম কামরুল ইসলাম
  • ২০২৬-০৯-২১ ২১:৫৪:৫০
image

.
আমি social media ঘাটাঘাটি করি। এক-একটা ঘটনা আর তার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া মনকে নাড়া দেয়, অনেক সময় মনকে ব্যাথিত করে; ভীষন করম ব্যাথিত হই এবং নিজেকে সংঙ্কিত ও অসহায় মনে হয়। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড: নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) হত্যা ঘটনা অন্যান্যদের মত আমাকেও ভীষনভাবে বিপর্যস্ত, সংঙ্কিত ও চিন্তিত করেছে। ভেবেছিলাম এই ঘটনা নিয়ে কোন প্রতিক্রীয়া দিবনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু বক্তব্য না দিয়ে পারলাম না বিধায় আমার এই লেখা। 
২.
আমরা জেনেছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট ১৫ বছরের ফাহাদসহ (তার আচার-আচরণ আরো ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে) দু'জন কিশোর নিয়ে চারজনকে ধরেছে এবং হারনো আই ফোন উদ্ধার করেছে। হত্যার বৈষয়িক কারন ও রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ অনেকেই আহাজারি করেছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, আইফোন নেওয়ার জন্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাঁধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাতের কারনে তার মৃত্যু হয়। ইন্নী ইলাহি ও ইন্না-লিল্লাহীর রাজিউন। হে মহান আল্লাহ তায়ালা তুমি মরহুমকে বেহেশতে নসিব ক'র এবং তারা বাবা-মাসহ সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের শোক সহ্য করার ধৈর্য্য ও সামর্থ দাও। আমিন। 
.
অপরাধী ফাহাদের (১৫) আচরন: অপ্রতিমকে যারা বাঁশ দিয়ে আঘাত করেছিল, তাদের মধ্যে নবম শ্রেনির ১৫ বছরের ফাহাদও ছিল। অপ্রতিমের চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়। অর্থাৎ সেও একজন শিশু। কিন্তু এরপর যা করেছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি ভয় ধরিয়ে দেয়। 
হত্যার পর রাতে অপ্রতিমের ছবি দিয়ে পোস্ট করে, "৩ টার পর থেকে ছোট ভাই অপ্রতিমরে পাওয়া যাচ্ছে না, কেউ কোথাও দেখে থাকলে জানাইও!” হত্যা করে তারই ছবি দিয়ে নিখোঁজের পোস্ট! এরপর আসে আরও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। পরদিন সকালে পুলিশ যখন অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে যায়, তখন কৌতূহলী মানুষের ভিড়ের মধ্যেই ফাহাদও উপস্থিত ছিল।শুধু উপস্থিত হওয়াই নয় সেখান থেকে ফেসবুক লাইভও করে। আর সেই লাইভের ক্যাপশনে লেখা, 'আইফোন?” 
একবার ঠান্ডা মাথায় বিষয়টা ভাবুন। যে ছেলেটার বয়স মাত্র ১৫, যে নিজেও একজন শিশু৷ সে একজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার পর, পরদিন সেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে এমনভাবে লাইভ করছে, যেন সে শুধু একজন সাধারণ দর্শক! এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়। এটা বাস্তব। সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্নটা, অপ্রতিমকে কারা হত্যা করল, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, ১৫ বছরের একটা শিশু কীভাবে এমন নির্মমতার জায়গায় পৌঁছে গেল? ফাহাদের মতন কামরুলও সেম কাজটা করছিল৷ 
কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পরও তার মধ্যে এতটুকু ভয়, আতঙ্ক কিংবা অনুশোচনা কাজ করল না? আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আসলে কোনদিকে যাচ্ছে? এটার জন্যে আসলে কারা দায়ী? বাবা-মা নাকি সমাজ নাকি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা? 
৪.
অপরাধীরা শাস্তি পাবে। সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবারও শাস্তি পাবে। অপ্রতিমের পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারের স্বজনেরা কষ্ট নিয়ে আজীবন মৃত্যপ্রায় বেঁচে থাকবে। আমরা সবাই প্রচন্ড মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে পড়লাম। পাশাপাশি, এই মর্মান্তিক আর একবার সমাজের বড় অবক্ষয়ের একটা দিক উন্মোচিত হল; দেশ ও সমাজের অপূরনীয় ক্ষতি হ'ল, তার কি হবে? এখন দেশ ও সমাজের করণীয়ইবা কি? 
৫.
অপ্রতিমের মৃত্যু সমাজের কতগুলো দিক উন্মোচিত করেছে যা সংক্ষেপে আলোকপাত করার চেস্টা করা হল:
সামাজিক অবক্ষয়: আমাদের সমাজের রন্ধেরন্ধে ঘুন ধরছে।
বাকস্বাধীনতা: আমরা সীমাহীন বাকস্বাধীনতা চাই। প্রকাশ্যে অশ্লীল গালিগালাজ করি। গালিগালাজ বন্ধে আইন প্রণয়ন সময়ের দাবী। বাকস্বাধীনতার সংজ্ঞা ও সীমা নিরূপণ করতে হবে। সবাইকে সুস্থ পরিবেশে মানসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার দিতে হবে।
অভিভাবকত্বের দায়বদ্ধতা: অপ্রতিমের বাবা-মা উচ্চশিক্ষাত এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তার বন্ধু মহল এতটা উশৃংখল তা জেনেও যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে আই ফোন দেয়াসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহিত করেছে। এই দুক্ষের সময় তার মায়ের মুল্যবোধ/সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে দেয়া পোস্ট নিয়ে আর আলোচনা নাইবা করলাম।
কিশের গ্যাঙ্গ আর কিশোর অপরাধ: জ্যামিতিক হারে ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ আমাদের দেশ ও সমাজের জন্যে বড় হুমকি। অথচ সমাজের প্রভাবশালীরা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় আর অপরাধে উৎসাহিত করে।কালশী-ভাষানটেক-মাটিকালা ও রুপপুরসহ ঢাকা এবং ছোট/বড় শহর কিম্বা গ্রামগঞ্জে তাদের স্বরব উপস্থিত দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কেদোছেন কিন্ত তার মত লোকেরাই কিশোর অপরাধীদের লালন-পালন করছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরী প্রতিকারমুলক ব্যবস্থা নিতে না পারলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে।
আইন প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নির্লিপ্ততা: সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিয়ে আলোচনা করবো না। কারন বাস্তবতা আমরা সবাই কম বেশি জানি। তবে অপ্রতিমের হত্যার সাথে জড়িত কিশোর এবং মুল আসামী তুহিন কিছুদিন আগে অপরাধ করে ধরা পড়লেও শাস্তি ব্যতিত ছাড়া পেয়ে এত বড় আর একটা অপরাধ করলো।
আইনের স্বল্পতা ও হালনাগাদ করন: পুরাতন আইনকানুন দ্বারা ২০২৬ সালের অপরাধ দমন এবং দেশ ও সমাজকে ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জিং কাজ। পাশাপাশি পুরাতন আইনকানুনের যথাযথ ব্যবহার হয়না। এ প্রসঙ্গে চীনের সোস্যাল ক্রেডিট সিস্টেমের উদহারন (নিম্নে প্রদত্তা) দেয়া যেতে পারে।
নেতৃত্বের দুর্বলতা ও ব্যর্থতা: রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব সম্পর্কে কমবেশি আমরা জানি বিধায় বিস্তারিত আলোচনা না করেই বলতে চাই, বাংলাদেশে দরকার খাঁটি দেশপ্রেমিক নির্মোহ আধুনিক নেতৃত্ব। 
.
গন চীনের উদাহরণ: অপরাধ রোধে চীনের সফলতা উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে। চীন একটি বড় দেশ এবং নানা জাতপাতের বিশ্বের বৃহৎ জনগোষ্ঠী বসবাস করে। তারপরেও চীনে অপরাধ কম। অন্যতম কারন হ'ল, আইনের যথাযথ প্রয়োগ। 
চীনে কোনো ক্রাইম করলে সাথে সাথে অপরাধীর তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে আপলোড হয়ে সমগ্র চীনে ছড়িয়ে যায়। তখন ন্যাশনাল আইডি কার্ড রেড ফ্লাগ হয়ে যাবে।ডাক্তারের কাছে যেয়ে আইডি দিয়ে এন্ট্রি করার সময় হসপিটাল কর্তৃপক্ষ জেনে যাবে। চীনে জামিনের জন্য একজন জামিনদার বা গ্যারেন্টর লাগবে অথবা সিকিউরিটি মানি হিসাবে সরকারের কাছে বিপুল অংকের টাকা জমা রাখতে হবে। যদি পারফরম্যান্স ভালো হয় তবেই টাকা ফেরত দেয়া হয়। অন্যদিকে জামিনের পর আবার অপরাধ করলে জামিনদারও শাস্তি পাবে। আর সিকিউরিটির টাকা ফেরত দেয়া হবে না এবং বাকি ক্রাইমের জন্য শাস্তি হবে। 
চীনে "সোস্যাল ক্রেডিট সিস্টেম" চলু করা হয়েছে। সোশ্যাল ক্রেডিট সিস্টেমের মূল হাতিয়ার হলো তালিকাভুক্তকরণ। কেহ আইন মেনে চললে, কর সময়মতো দিলে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখলে সে বিভিন্ন সুবিধা পাবে। সকল সরকারি কাজে অগ্রাধিকার পাবে, হেল্প পাবে। পক্ষান্তরে, কেহ অপরাধ করলে, আদালতের রায় অমান্য করলে বা সামাজিক নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে ডিসঅনেস্ট পার্সন ঘোষণা করে ব্ল্যাকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করে নিম্নের শাস্তিগুলো দেয়া হবে: 
ক. হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন এবং বিমানের টিকিট কেনা যাবে না। দূর পাল্লার ভ্রমণে সাধারণ বা ধীরগতির ট্রেন বা বাসের ওপর নির্ভর করতে হবে।
খ. বিলাসবহুল ক্রুজ ভ্রমণ, প্লেনে প্রথম শ্রেণির সিট বুক করা কিংবা বড় কোনো অবকাশ যাপন কেন্দ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
গ. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কোনো ধরনের লোন, মর্টগেজ বা নতুন ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যাবে না।
ঘ. কোনো কোম্পানির পরিচালক, সুপারভাইজার বা আইনি প্রতিনিধি হতে পারে না। এমনকি বড় কোনো প্রতিষ্ঠানে উর্ধ্বতন পদে চাকরি পাওয়াও কঠিন হবে।
ঙ. শেয়ার বাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ বা নতুন বিমা পলিসি খোলার ক্ষেত্রে আইনি বাঁধা থাকবে।
চ. কিছু নির্দিষ্ট হাই-এন্ড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বা বড় সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্লক বা সীমিত রাখা হবে। নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হবে।
ছ. অনেক সময় এই ব্ল্যাকলিস্টে থাকা ব্যক্তিদের নাম, ছবি ও আংশিক আইডি নম্বর বড় বড় পাবলিক স্ক্রিন বা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেওয়া হয়, যাতে সমাজের সবাই তাদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারে। 
এই সোস্যাল ক্রেডিট একটা স্কোরিং সিস্টেম। ভালো কাজ করলে স্কোর বাড়বে, সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা ধুমায়ে ব্যবহার করা যাবে। আর ক্রাইম করলেই স্কোর কমতে থাকবে। নির্দিষ্ট স্কোরের নিচে নামলেই ব্ল্যাকলিস্ট তারপর পরিণতি কি হবে তার লিস্ট উপরে দেয়া হয়েছে। 
ব্ল্যাকলিস্ট থেকে বার হওয়ার একমাত্র উপায় ভালো কাজ করে অথবা বিপুল অংকের জরিমানা পরিশোধ করে সোস্যাল ক্রেডিট স্কোর বাড়ানো। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য এবং আইন প্রণেতাদের এই রকম সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। 
.
রাস্ট্রের দায়দায়িত্ব: এখন আসো যাক রাষ্ট্র প্রসঙ্গে।অপ্রতিম অবেলায় এভাবে মারা গেল, এই দায় কার? অবশ্যই রাষ্ট্রের! কেন এই রাষ্ট্র তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না? কিশোর গ্যাং অবাধে অপরাধ করে বেড়ানোর সুযোগ পায় কীভাবে? প্রশাসন কী করে? প্রশাসনের ভূমিকা কই? কিশোর গ্যাং তৈরীই হয় কীভাবে? আইনের প্রয়োগ কই? আইনের প্রতি আস্থা কই? ভয় কই? বিচার কই? নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা কি পূরণ করতে পারছে? কখন সমাজে অপরাধ বাড়ে? কখন সব কিছু আউট অব কন্ট্রোল হয়? Anarchy, Disorder, Chaos, ইত্যাদি কখন টেকওভার করে?সিস্টেম কতটুকু ব্যর্থ হলে, কতটা ঘুণে ধরা হলে প্রতি সপ্তাহের ছয় দিনই কোন না কোন বাচ্চার নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড নিয়ে আমাদের বিচার চাইতে চাইতে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া লাগে? বস্তিতে জন্ম নেয়া  শিশু থেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ঘরে জন্ম নেয়া শিশুও হুবহু একই রকম, একই পরিমান নিরাপত্তার দাবী রাখে।সেটা তাদের জন্মগত অধিকার। রাষ্ট্র কি আমাদের সেটা দিচ্ছে? কিন্তু দিতেতো হবে। 
.
অপ্রতিম শুধু তার পরিবারকে একটি ট্র্যাজেডি দিয়ে যায়নি, সে আমাদের সমাজের চরিত্র উন্মুক্ত করে একটি চার্জশিট (আমরা এমন একটি সমাজ বানিয়েছি, যেখানে একটি শিশুকে বাঁচতে হলে শিশুর মতো বাঁচা বন্ধ করতে হয়) দিয়ে গেছে। খুনিতো কেবল একজন শিশুকে মারেছে। আর আমাদের ব্যর্থ সমাজ ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে বাকিদের শৈশব ও কৈশোর। 
.
অপ্রতিম আর ফিরবে না। কিন্তু তার মৃত্যু যদি কেবল শোক হয়ে থাকে, পরিবর্তনের কারণ না হয়, তবে এই হারানো অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। অপ্রিতমের এই চলে যাওয়া আমাদের জন্য যদি শিক্ষা না হয় তাহলে এমন ঘটনার সামনে হয়তো আবারও পরতে হবে। আর কোন মা বাবার কুল খালি না হোক এই প্রত্যাশাই করি। 
১০.
যেখানে আগুনেপুড়ে মরা ১২ বছরের শাওনের জন্যে ইনডেমনিটি চাওয়া হয়, আছিয়া ও রাসিমার মত হাজার শিশুর মৃত্যুকে ভুলে যেতে হয় আর সাগর-রুনি বা গনপতি বাবুর ছেলের করুন মৃত্যুর পরেও চুপ থাকতে হয় সেখানে প্রতিদিন নতুন ইস্যু আসবে। দুই-চার-পাঁচ দিন আলোচনা হবে, তারপর নতুন আরেকটি ইস্যু আসবে। তারপর আরও একটি। অন্যায়-অবিচার, হত্যা-রাহাজানি, ইত্যাদি বন্ধ হবে না, এটাই নিয়ম হয়ে যাবে।