জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৯-২১ ১৬:২৮:৪৭
image

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মানুষের আয় না বাড়িয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি না ফিরিয়ে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানো কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অর্থ শুধু পাম্পে গিয়ে বেশি টাকা দেওয়া নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাস-ট্রাকের ভাড়া, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের পুরো চাপ গিয়ে পড়ে ভোক্তার কাঁধে।
আমি একজন সমাজকর্মী,ভোক্তা অধিকার ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে স্পষ্টভাবে বলতে চাই-জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে কোনো অর্থনৈতিক সংকটের টেকসই সমাধান হতে পারে না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন চাপে,তখন জ্বালানির দাম বাড়ানো মানে সাধারণ মানুষের সংসার ব্যয়ের ওপর আরও একটি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের কথা সরকারকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হবে। একজন শ্রমজীবী মানুষ,একজন নিম্নবেতনভোগী কর্মচারী,একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা একজন সাধারণ পরিবারের কাছে প্রতিদিনের যাতায়াত ও বাজার খরচ সামান্য বাড়াও বড় চাপ। সেখানে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বহুমুখী প্রভাব তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলবে।
সরকারের অর্থনৈতিক সংকট থাকতে পারে, জ্বালানি আমদানির ব্যয় থাকতে পারে-কিন্তু সেই সংকটের সবটুকু জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্র যখন জনগণের কাছ থেকে কর নেয়, তখন সংকটের সময় জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।
জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ও সরকারের রাজস্ব কাঠামো-সবকিছু স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে তার সুফল কতটা এবং কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।
আমার সরাসরি দাবি-জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে পূর্বের মূল্য পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে,যাতে হঠাৎ করে মধ্যরাতে মূল্যবৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ নতুন করে বিপাকে না পড়ে।
সরকার যদি সত্যিই মানুষের পাশে থাকতে চায়,তাহলে শুধু বক্তব্যে নয়, নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। মানুষের পকেটের ওপর চাপ কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তার অধিকার সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিকে স্বস্তিতে রাখা যায় না। অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন দেশের সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বাঁচতে পারে।
তাই আবারও জোর দাবি জানাচ্ছি-জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করুন। জনগণের ওপর আরেক দফা ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রা সুরক্ষার মধ্য দিয়েই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পথ খুঁজতে হবে।

সমাজকর্মী
ভোক্তা অধিকার ও মানবাধিকার কর্মী