ইনুর ১০ বছরের সাজা: ৫০০ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-২০ ১১:৪৪:৪৭
image

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল ইনুকে আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করে মোট ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এর অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দণ্ড দেওয়া হয়। অপর পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
৩ নম্বর অভিযোগে আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, এসব সাজা যুগপৎভাবে কার্যকর হবে। ফলে সব মিলিয়ে ইনুর কারাভোগের মেয়াদ ১০ বছর। আইন অনুযায়ী তিনি রায়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পাবেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইনুর বিরুদ্ধে দাখিল করা ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মোট ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, বল প্রয়োগের সিদ্ধান্তে সম্পৃক্ততা, সেনা মোতায়েন ও কারফিউ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের দমন ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
আরও অভিযোগ ছিল, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ, একই দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনায় সহযোগিতা এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান।
তবে এসব অভিযোগের সবগুলো ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়নি। ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ছয় আন্দোলনকারী হত্যার অভিযোগসহ মোট পাঁচটি অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

হাসানুল হক ইনু, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল