ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইইউর

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-১৯ ২০:৫১:২৫
image

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ইইউর কূটনৈতিক বিভাগের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি শনিবার বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তি এবং আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে আব্বাস সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তবে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদ ১৫২-৩ ভোটে তাঁকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা মনে করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগের মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মাধ্যমে পদক্ষেপ এবং আলোচনার বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টার বিষয়ও রয়েছে। 
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এমন একটি পুরোনো অর্থসহায়তা ব্যবস্থারও সমালোচনা করে আসছে, যার আওতায় ইসরায়েল-সংক্রান্ত সহিংসতায় নিহত বা কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের পরিবারের সদস্যরা সহায়তা পেতেন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিবারও সুবিধা পেয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার রক্ষার উদ্যোগ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পথ। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং এটি ফিলিস্তিন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্গঠন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে আগের অর্থসহায়তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কারাগারে থাকার বিষয়কে সহায়তার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
ভিসা নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জাতিসংঘে স্বীকৃত ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষক মিশনের নির্ধারিত কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল রয়েছে। ফলে ফিলিস্তিনি মিশনের সদস্যরা সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেয়নি। সে সময় সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।
এবারের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন শান্তি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নীতিগত অবস্থান নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছে; অন্যদিকে ফিলিস্তিনি পক্ষ আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অধিকার এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে কূটনৈতিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

ফিলিস্তিন, মাহমুদ আব্বাস, জাতিসংঘ