৩০ বলে শতক,অভিষেকের তাণ্ডবে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানে হারাল ভারত

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-১৮ ০৯:৪৯:০৭
image

দিল্লির মাটিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে শতক পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার বিধ্বংসী ইনিংসের সঙ্গে সাঞ্জু স্যামসনের অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ে ভারত। পরে বল হাতে আফগানিস্তানকে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১২৭ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান করে ভারত। জবাবে ১৪.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৯৪ রানেই থামে আফগানিস্তানের ইনিংস। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় ভারত।
ভারতের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক। ১০ ছক্কা ও ৯ চারে ৩০ বলেই শতকের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। এর আগে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে। ২০১৭ সালে ইন্দোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে শতক করেছিলেন রোহিত।
শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ১০৮ রান করে রশিদ খানের বলে কটবিহাইন্ড হয়ে ফেরেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। তার বিদায়ের সময় ৯.৫ ওভারে ভারতের ওপেনিং জুটি থেকে আসে ১৪২ রান।
অভিষেকের সঙ্গে ইনিংসের শুরুতে দারুণ সঙ্গ দেন সাঞ্জু স্যামসন। ৩৫ বলে ৫০ রান করেন তিনি। তবে শেষদিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোয় ভারত প্রত্যাশিত বড় সংগ্রহে পৌঁছাতে পারেনি। তবুও ২২১ রান আফগানিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
অভিষেকের ৩০ বলে সেঞ্চুরি শুধু ভারতের রেকর্ডই নয়, আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দ্রুততম শতক। গত মার্চে ইডেন গার্ডেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে শতক করে এ রেকর্ডটি গড়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের চেয়ে কম বলে শতক আছে আরও দুজনের। ২০২৫ সালে তুরস্কের হয়ে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে মুহাম্মাদ ফাহাদ ২৯ বলে শতক করেন। আর ২০২৪ সালে এস্তোনিয়ার হয়ে সাইপ্রাসের বিপক্ষে ২৭ বলে শতক করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন সাহিল চৌহান।
ঘরোয়া ক্রিকেটসহ টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের শতকের সংখ্যা দাঁড়াল ১০টি। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে এই সংখ্যায় তিনি বিরাট কোহলির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে তার চেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি শতক রয়েছে কেবল বাবর আজমের ১৩টি এবং ক্রিস গেইলের ২২টি।
ভারতের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও অভিষেকের দখলে। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংসে ১৩টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে হাঁকালেন ১১টি।
২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ভালোই এগোচ্ছিল আফগানিস্তান। প্রথম তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তোলে ৩০ রান। কিন্তু পাওয়ার প্লের পরের তিন ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা।
আফগানিস্তানের কোনো ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানের ২৫ রানই দলের সর্বোচ্চ। গুরবাজ করেন ১৫, ওমারজাই ১৭ এবং নুর আহমাদ ১১ রান।
ভারতের হয়ে নিতিশ কুমার রেড্ডি ও রবি বিষ্ণই নেন তিনটি করে উইকেট। অক্ষর প্যাটেল শিকার করেন দুটি। একটি করে উইকেট পান জসপ্রিত বুমরাহ ও ইয়াশ।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান অভিষেক শর্মা। তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে সিরিজসেরার স্বীকৃতিও উঠেছে তার হাতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২২১/৭
অভিষেক শর্মা ১০৮, সাঞ্জু স্যামসন ৫০, শ্রেয়াস আইয়ার ২৯। ওমারজাই ২/২৭, রশিদ খান ১/৪৩, আহমাদজাই ১/৩৮।
আফগানিস্তান: ১৪.১ ওভারে ৯৪
ইব্রাহিম জাদরান ২৫, ওমারজাই ১৭, গুরবাজ ১৫। নিতিশ কুমার রেড্ডি ৩/২৫, রবি বিষ্ণই ৩/২৬, অক্ষর প্যাটেল ২/৯।
ফল: ভারত ১২৭ রানে জয়ী
সিরিজ: ভারত ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যাচসেরা: অভিষেক শর্মা
সিরিজসেরা: অভিষেক শর্মা

অভিষেক শর্মা, ভারত-আফগানিস্তান, টি-টোয়েন্টি