বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)'র সভাপতি এম এ আলীম সরকার এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটানো গৌরবোজ্জ্বল ছবি যথাযথভাবে প্রদর্শন না করে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রনেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। আমরা এ নেক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কেবল একটি প্রদর্শনীর স্থান নয়, এটি দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ফলে সেখানে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও ঘটনাবলি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভারসাম্য ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
এম এ আলীম সরকার বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে কোনোভাবেই খণ্ডিত বা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্র। তাই তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার যথাযথ দলিল ও আলোকচিত্র সংগ্রহশালায় উপস্থাপন করা ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক কোনো ব্যক্তির ছবি গবেষণা ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করা হলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়, রাজনৈতিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। কিন্তু এমন কোনো উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়, যা ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসকে অস্পষ্ট করে দেয়।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি ডাকসু কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংগ্রহশালার প্রদর্শনী পুনর্মূল্যায়ন করে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক দলিল, আলোকচিত্র ও নিদর্শন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের প্রতিফলন না হয়ে বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক-এটাই প্রত্যাশা।