ভোরের হাওয়ায় দুলে ওঠে কাশবনেরই শীষ,
উঠেছে রবি পূব আকাশে সোনা রঙ মেশানো শিশির।
বাঁশঝাড়েতে দোয়েল ডাকে, কোকিল গায় গান,
মাটির ঘ্রাণে ভরে ওঠে ঘুম-ভাঙা প্রাণ।
ধানের ক্ষেতে বাতাস ছুটে, ঢেউ তোলে সবুজ,
দূর মাঠেতে লাঙল কাঁধে হাঁটে কালু চাষি রুজ।
বলদ দুটির গলায় বাজে ছোট্ট ঘুঙুরখানি,
পথের ধারে দাঁড়িয়ে দেখে খোকন মিয়ার রাণী।
পুকুরঘাটে কলসি কাঁখে যায় রহিমের বউ,
পায়ের নূপুর ঝুমুরঝুমুর —চমকে ওঠে ঢেউ।
শাপলা পাতায় বসছে দেখো নীলচে একটি ফড়িং,
জলের বুকে রোদ ঝিলমিল—কী যে মধুর রঙ!
দুপুর হলে তালতলেতে রাখাল বাঁশি বাজায়,
বাঁশির সুরে পথ ভুলে যে গরুর পালও কাছে ধায়।
খড়ের গাদায় ঘুমায় বিড়াল, উঠোন জুড়ে হাঁস,
দাদির মুখে গল্প শুনে খোকা মারে হাসি-হাস।
সাঁঝ নামিলে গাঁয়ের পথে ফেরে চাষির দল,
কারো কাঁধে কোদাল থাকে, কারো হাতে হাল।
পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে যায়, পাখি ফেরে নীড়ে,
ধোঁয়া ওঠে মাটির চুলায়, সন্ধ্যা নামে ধীরে।
আজান ভাসে দূর মসজিদে, বাজে শাঁখের ধ্বনি,
গাঁয়ের বুকে রাত নামে যে—শান্ত, স্নিগ্ধ, রঙিন।
জোনাক জ্বলে ঝোপের ধারে, চাঁদ ওঠে আকাশে,
এই গাঁয়েরই মাটির গন্ধ আমার বুকের পাশে।।