জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার রায় মঙ্গলবার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-১৪ ১৩:০৩:৪২
image

জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষ নেতার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।
সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আসামি ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলার সাত আসামিই পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা মনে করছে। যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানায়। একই সঙ্গে আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস ব্যবস্থা গ্রহণ, হত্যা ও দমন-পীড়নের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন অডিও-ভিডিওসহ অন্যান্য উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং এতে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য উপাত্ত এবং আসামিপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর আদালতের রায়েই অভিযোগগুলোর আইনগত অবস্থান নির্ধারিত হবে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
আগামীকাল মঙ্গলবার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।

জুলাই আন্দোলন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, ওবায়দুল কাদের