ক্ষুধা এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি,
যেখানে শতাব্দীর অবহেলা আর অন্যায়ে জমে আছে লাভা স্রোত
ক্ষুধা শুধু মানুষের পেটেই জ্বলে না,
জ্বলে কলে কারখানায়, বস্তিতে, ফুটপাতে
যেখানে শ্রম আছে কিন্তু ন্যায্য পাওনা নেই।
সোনালি ধানে ভরে ওঠে গোলা তবু কৃষকের ঘরে
রাত নামে একমুঠো ভাতের জন্য,
নদীতে জাল ভরে ওঠে হরেকরকম মাছ
অথচ জেলেরা পায় না আমিষের স্বাদ।
ক্ষুধা তখন নীরব থাকে না
মানুষের চোখে মেঘের মতো ছায়া ফেলে
আর একদিন সেই মেঘই বজ্র হয়ে নামে রাজপথে।
ক্ষুধা তখন আর ভিক্ষা চায় না, হানা দেয় দ্বারে-দ্বারে
প্রাসাদে, ক্ষমতায়, অবিচারের প্রতিটি উঁচু দেওয়ালে।
কারণ ক্ষুধা জানে, অন্ন কোনো দয়া নয়, অধিকার।
ক্ষুধার্ত শিশুর কাঁধে বইয়ের বদলে ইট,
মায়ের চোখে ঘুমের বদলে আকালের দুঃস্বপ্ন
কর্মহীন বৃদ্ধ বাবার চোখে জ্বলছে সংসার-হুতাশন
এইসব দৃশ্য জমতে জমতে ক্ষুধার্ত পেট অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে
যেন লাভা উদ্গিরণের আগে নিস্তব্ধ আকাশ।
তারপর একদিন ক্ষুধা মানুষের কণ্ঠে ভাষা খুঁজে পাবে
লক্ষ কণ্ঠে ধ্বনিত হবে
ভাত চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই।
রাজপথ নদীর মতো ভরে ওঠে গণজোয়ারে
ক্ষুধা তখন আর শব্দ নয়, হয়ে ওঠে মিছিলে স্লোগান,
হয়ে ওঠে বজ্রকণ্ঠের দাবি।
প্রাসাদের জানালায় তখন ভয়ের ছায়া নেমে আসে,
কারণ ক্ষুধার চোখে কোনো ভয় নেই
শুধু সত্যটা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠো।
আর যেদিন এই সত্য পৃথিবীর সব মানুষের কণ্ঠে জেগে উঠবে,
সেদিন ক্ষুধা আর অভিশাপ থাকবে না
তা হবে বিদ্রোহের আগুন,
যে আগুনে পুড়ে যাবে সব ময়ূর সিংহাসন।