ফুলতলা উপজেলার হাফেজ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলামের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী

  • শেখ বদর উদ্দিন
  • ২০২৬-০৯-১০ ২১:৫৪:৩৬
image

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ সময় গড়িয়ে চলে তার নিজস্ব নিয়মে,কিন্তু কিছু প্রিয় মানুষের শূন্যতা সময়ের স্রোতে ভেসে যায় না; বরং দিন যত যায়, সেই শূন্যতা আরও বেশি অনুভূত হয়। খুলনার ফুলতলা উপজেলার গিলাতলা গাজীপাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠালগ্ন ইমাম ও খতিব, প্রবীণ আলেমে দ্বীন মশিয়ালী দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলামের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তেমনই এক গভীর শূন্যতা ও হৃদয়বিদারক স্মৃতির সাগরে ভেসেছেন গিলাতলা ইউনিয়নবাসী।
২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি অসুস্থ জনিত কারণে চিকিৎসারতবস্থায় না-ফেরার দেশে চলে যান। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই এক যুগ পার হতে চলল, কিন্তু মনে হয় এই তো সেদিনের কথা!
তাঁর সেই মধুমাখা গলার খুতবা, পরম মমতায় ভরা সুন্দর উপদেশ এবং মসজিদের মেহরাবে দাঁড়িয়ে সুন্দর কন্ঠে কুরআন তিলওয়াত আজও আমাদের কানে বাজে।
গিলাতলা গাজীপাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি নিষ্ঠা, আমানতদারিতা ও পরম আন্তরিকতার সাথে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেবল মিহরাবেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না, শিশু ও ছোট ছোট সন্তানদের বুদ্বুদে দীনি আলো ছড়াতে তিনি নিজ হাতে গড়ে তুলেছিলেন কুরআন শিক্ষার মক্তব। শুধু তাই নয়, তিনি ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভি পদে সুনামের সহিত শিক্ষাকতা করেছিলেন দির্ঘ্য ২৭ বছর। আজ তাঁর শেখানো সুরে যখন মক্তব আর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সুর মিলিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করে, তখন প্রতিটি উচ্চারণে হুজুরের অমর স্মৃতি হৃদয়ে ভেসে ওঠে।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গিলাতলা গাজীপাড়া বায়তুন নাজাত জামে মসজিদ কমিটি, এলাকার সর্বস্তরের মুসল্লি এবং মশিয়ালী মাদ্রাসার সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী সাধারণ মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করছেন। এক বাক্যে বলতে গেলে-আমরা তাঁকে ভীষণ মিস করছি, তাঁর অভাব পূরণের নয়।  প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজে, খুতবার মুহূর্তে এবং মাদ্রাসার পাঠদানে আজও যেন তাঁর মায়াবী উপস্থিতির অভাব সবাইকে এক গভীর অনুশোচনা ও বেদনায় আচ্ছন্ন করে।
মরহুমের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে আকুল প্রার্থনা জানিয়েছেন-আল্লাহ যেন তাঁর দ্বীনের খেদমত, সততা ও নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজের বদৌলতে তাঁর জীবনের সকল ভুলত্রæটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।