নারী সে প্রভাতের মতো, স্নিগ্ধ তাহার হাসি,
সংসারের শত দুঃখেও রাখে ভালোবাসি।
অল্প ধনে গৃহ সাজায়, অল্পেতে সুখ,
নিজের ব্যথা গোপন রেখে মুছে পরের দুঃখ।
দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর, তবু বিশ্রাম নাই,
সবার সুখের হিসাব রাখে, নিজের হিসাব নাই।
কত ঝড় আসে জীবনে, তবু থাকে স্থির,
মমতারই দীপ জ্বালিয়া করে ঘরকে নীড়।
জ্ঞান-বুদ্ধির আলো দিয়ে মেলায় জীবনের গণিত,
ভুলের মাঝেও খুঁজে নেয় আগামী দিনের ইঙ্গিত।
কিন্তু যখন প্রেমের ঋতু নামে হৃদয়-আঙিনায়,
সব বিচার যেন হারায় তখন অদৃশ্য কোনো মায়ায়।
যে মানুষটি প্রিয় হয়, তারে দেখে শুধু প্রাণ,
দোষ-গুণের পরিমাপ তখন হয় না অবসান।
তার হাসিতে আনন্দ জাগে, দুঃখে জাগে ব্যথা,
তার একটি সুখের জন্য বিসর্জিত হয় কথা।
ভালোবাসা তাহার কাছে চাওয়া-পাওয়ার নয়,
প্রিয়জনের মঙ্গলেই তাহার পরম জয়।
নিজের স্বপ্ন সরিয়ে রাখে অন্যের স্বপ্নতরে,
নিজের আলো বিলিয়ে দেয় প্রিয় মানুষের ঘরে।
এই যে নারী, এই যে হৃদয়, এই যে ত্যাগের গান,
ইহার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সম্মান।
প্রজ্ঞা তাহার পথ দেখায়, মমতা দেয় প্রাণ,
দুইয়ের মিলনে গড়ে ওঠে ভালোবাসার স্থান।