এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • পুরুষ কিসে আটকায়
  • ২০২৬-০৯-০৯ ১৭:০০:০৮
image

পুরুষ কিসে আটকায়-
এই প্রশ্নের উত্তর
কোনো এক লাইনে লেখা যায় না।

সে আটকে যায়
বাবার পুরোনো ওষুধের বাক্সে,
মায়ের মুখে বলা
‘আমি ভালো আছি’ কথাটায়।

আটকে যায় সন্তানের
স্কুলের বেতনের তারিখে,
বাড়িভাড়ার শেষ সপ্তাহে,
মাস শেষ হওয়ার আগেই
ফুরিয়ে যাওয়া বেতনে।

সে আটকে যায়
স্ত্রীর চোখের নীরব প্রশ্নে-
কী হয়েছে তোমার?

অথচ সে বলতে পারে না,
আজ অফিসে বসে
নিজেকেই চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে
প্রথমবার ভয় পেয়েছিল।

পুরুষ অনেক সময়
টাকার কাছে আটকায় না,
আটকে যায়
টাকা না থাকার লজ্জায়।

বন্ধুরা যখন
সফলতার গল্প করে,
সে হাসে, অভিনন্দন জানায়,
তারপর বাসায় ফিরে
নিজের হিসাবের খাতা খোলে।

কোথায় কমাবে খরচ,
কোন প্রয়োজনটা পিছিয়ে দেবে,
কার ইচ্ছেটা এবার
অপূর্ণ থাকবে-
এই অঙ্কে সে প্রতিদিন
নিজেকে বিয়োগ করে।

পুরুষ আটকে যায়
নিজের দেওয়া কথায়ও।

যে প্রতিশ্রুতি
কাউকে মুখে বলে ফেলেছে,
সেটা রাখতে গিয়ে
কখনো নিজের ঘুম,
নিজের স্বপ্ন,
নিজের প্রয়োজন
পিছনে ফেলে দেয়।

সে কাঁদে না-
এমন নয়।

শুধু কাঁদার জায়গাটা
অনেক সময় খুঁজে পায় না।

বাথরুমের দরজা বন্ধ করে,
গাড়ির ভেতর একা বসে,
অথবা গভীর রাতে
সবাই ঘুমিয়ে গেলে
চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।

পুরুষের সবচেয়ে বড় কারাগার
হয়তো তার অহংকার নয়,
তার দায়িত্ববোধ।

কারণ সে জানে-
সে ভেঙে পড়লে
আরও কয়েকজন মানুষ
হয়তো ভয় পেয়ে যাবে।

তাই নিজের ভাঙা অংশগুলো
নিজেই জোড়া লাগায়,
পরদিন আবার
স্বাভাবিক মুখে বেরিয়ে পড়ে।

কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না-
তুমিও কি কখনো
কারও কাঁধে মাথা রাখতে চাও?

কেউ বলে না-
আজ তুমি কিছু করো না,
আমরা তোমাকে সামলে নেব।

তাই পুরুষ আটকে যায়
একটি অদৃশ্য ধারণায়-
তাকে শক্ত থাকতেই হবে।

কিন্তু সত্যি হলো,
শক্ত মানুষও ক্লান্ত হয়,
দায়িত্বশীল মানুষও ভয় পায়,
আর পুরুষও কখনো
শুধু একজন মানুষ হয়ে
কাঁদতে চায়।

তারপরও সে ওঠে,
শার্ট পরে,
জুতো বাঁধে,
দরজা টেনে বেরিয়ে যায়।

কারণ পৃথিবী
তার ব্যক্তিগত কষ্টের জন্য
অফিস বন্ধ রাখে না।

এইভাবেই পুরুষ বেঁচে থাকে-
নিজের ভেতর
অনেকগুলো অসমাপ্ত কান্না নিয়ে,
আর বাইরে
একটি সম্পূর্ণ মানুষের মুখ পরে।

পুরুষ আসলে
কিসে আটকায় জানো?

যাদের ভালোবাসে,
তাদের ভালো রাখার
অদৃশ্য দায়ে।

আর সেই দায়ের ভেতরেই
কখনো কখনো
নিজেকেই ভুলে যায়।