চাঁপাইনবাবঞ্জে স্কুল ফিডিং এর খাবার খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
- জাকির হোসেন পিংকু
-
২০২৬-০৯-০৬ ২০:৫৯:৫১
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং এর খাবার খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার(৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ে ২টি মেয়াদোত্তীর্ণ ও সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের (গাক নামের একটি এনজিও) গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১টি মেয়াদ উল্লেখবিহীন খাবার প্যাকেট খুঁজে পান প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এছাড়া গাকের গোডাউনের ভেতের দিয়ে যাওয়া পয়:নিষ্কাশনের একটি পাইপ মুখ খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন।
জেলা শহরের ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুরে ডিম ও পাউরুটির খাবার প্যাকেট শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করার পর দুপুর পৌনে দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বোধ করতে থাকে। শিক্ষার্থীদের ২ জন ছেলে ও ৯ জন মেয়ে। ২ জন পঞ্চম,৬জন চতুর্থ ও ৩ জন তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সফররত বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীর নির্দেশে দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ে ছুটে যান সিভিল সার্জন সহ প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাঁরা গাকের গোডাউন পরিদর্শনে যান।
জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, তদন্ত না করে কেন শিশুরা অসুস্থ হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা যাবে না। বিভিন্ন কারণেই এমনটি হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তারা আশংকামুক্ত। শিশুদের মূল সমস্যা ছিল পেটে ব্যথা।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক ব্েযলন,এ ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শিশুদের দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
ইউএনও বলেন, ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৩ ও ৪৫ ধারায় গাককে অর্থদন্ড করা হয়েছে। গাকের এরিয়া ম্যানেজার ফিরোজ হোসেন দন্ডের অর্থ পরিশোধ করেছেন। এর আগেও গাকের সরবরাহকৃত খাবার নিয়ে কয়েক দফায় জেলার ৩ উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্বেও অর্থদন্ড করা হয়েছে এমনকি খাবার সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা সহ মামলাও করা হয়েছে। এরপর সরবরাহ কিছুটা উন্নত হলেও তাদের সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার সূযোগ রয়েছে।