‘গাছ গোনার দিন’

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৯-০৪ ১১:১২:৪৭
image

বন্ধুরা, আজকের পর্বে থেকে নতুন একটি ছোট অধ্যায়ের সূচনা।এখানে আমরা গাছের সংখ্যা গোনার পাশাপাশি গাছের পরিচয় ও ইতিহাস খোঁজার দিকে এগোব।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
নতুন অধ্যায়: গাছের পরিচয় খোঁজার অভিযান
পর্ব-৭১: 

পরদিন সকালেই রাহি, অরণ আর শিসু আবার বটদাদুর নিচে এসে হাজির হলো।
অরণ হাতে একটি খাতা নিয়ে বলল, ‘আজ থেকে আমাদের নতুন কাজ-গ্রামের গাছ গোনা।’

শিসু হেসে বলল, ‘গাছ গোনা খুব কঠিন নাকি?’
রাহি বলল, ‘শুধু গুনলেই হবে না। কোন গাছ কোথায় আছে,কী গাছ,কত পুরোনো,কে দেখাশোনা করে-সব লিখতে হবে।’

নাসির স্যারও তখন সেখানে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি বললেন, ‘খুব ভালো পরিকল্পনা। তবে মনে রেখো,শুধু সংখ্যা জানলেই একটি গ্রামের সবুজের খবর জানা যায় না। জানতে হবে কোন গাছগুলো গুরুত্বপূর্ণ,কোনগুলো বিপদে আছে এবং কোন গাছগুলো মানুষ ভুলে যাচ্ছে।’

তিনজন কাজে নেমে গেল।
প্রথমে তারা বটদাদুর পাশের বড় আমগাছটি খাতায় লিখল।
তারপর পুকুরপাড়ের নারকেলগাছ,স্কুলের মাঠের কৃষ্ণচূড়া,পুরোনো রাস্তার ধারের নিমগাছ-এভাবে একে একে গাছের তালিকা তৈরি হতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর শিসু একটি বিশাল কড়ইগাছের সামনে থেমে গেল।
-‘এই গাছটার নাম কী?’ সে জিজ্ঞেস করল।

অরণ বলল, ‘কড়ই।’
রাহি গাছটির গুঁড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,‘কিন্তু এই গাছটা কে লাগিয়েছিল?’

কেউ জানে না।
তারা পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধের কাছে গেল।
বৃদ্ধ কিছুক্ষণ গাছটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই গাছটা আমার ছোটবেলারও আগে ছিল। তখন এখানে এত বাড়িঘর ছিল না।’
রাহি অবাক হয়ে বলল, ‘তাহলে গাছটার বয়স অনেক!’
বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ। তবে বয়সটা কেউ লিখে রাখেনি।’

রাহি খাতায় লিখল-
‘পুরোনো কড়ইগাছ-সঠিক বয়স অজানা। গ্রামের প্রবীণদের মতে বহু বছরের পুরোনো।’
অরণ বলল, ‘দেখেছ! আমরা শুধু গাছ গুনতে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু গাছগুলোরও তো গল্প আছে।’

শিসু বলল, ‘তাহলে আমাদের খাতার নাম বদলানো উচিত।’
‘কী নাম হবে?’ রাহি জানতে চাইল।
শিসু একটু ভেবে বলল, ‘গাছের পরিচয় খাতা।’

তিনজনই হেসে উঠল।
বটদাদুর দিকে ফিরে রাহি বলল,‘আমরা শুধু কতগুলো গাছ আছে তা লিখব না। কোন গাছের সঙ্গে গ্রামের কী স্মৃতি জড়িয়ে আছে,সেটাও লিখব।’
নাসির স্যার দূর থেকে কথাটা শুনে বললেন, ‘এই তো আসল কাজ। যে গাছের পরিচয় মানুষ জানে,সেই গাছকে রক্ষা করার দায়িত্বও মানুষ বেশি অনুভব করে।’

সেদিন দুপুর পর্যন্ত তারা মাত্র পনেরোটি বড় গাছের তালিকা করতে পেরেছিল।

কিন্তু খাতার শেষ পাতায় একটি নতুন শিরোনাম লেখা হলো-
‘যেসব গাছের পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে।’
তার নিচে প্রথম নামটি লিখল সেই পুরোনো কড়ইগাছের।
রাহি খাতাটি বন্ধ করে বলল, ‘আগামীকাল আমাদের খুঁজে বের করতে হবে-এমন আর কত গাছ আছে?’

বটদাদুর পাতার ফাঁক দিয়ে তখন রোদ এসে মাটিতে ছোট ছোট ছায়া ফেলছিল।
তিন বন্ধু বুঝতে পারল,গাছ গোনার কাজটি আসলে তাদের নিয়ে যাচ্ছে গ্রামের হারিয়ে যেতে বসা স্মৃতির কাছে।

আজকের সবুজ শিক্ষাঃ
গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ নয়,একটি এলাকার ইতিহাস ও মানুষের স্মৃতিরও অংশ। পুরোনো গাছের পরিচয় ও ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রকৃতি রক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আজকের ছোট্ট তথ্যঃ
একটি বড় গাছ শুধু ছায়াই দেয় না; এটি পাখি ও পোকামাকড়ের আশ্রয় তৈরি করে,বাতাসের মান ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখে।