ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চান মোদি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-০১ ২৩:১৫:০৭
image

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও বহুমুখী করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর গত ছয় মাসে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগ হলেও এটি ছিল তাঁদের প্রথম সরাসরি বৈঠক।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে তাঁর দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিধি বাড়ানো এবং বাণিজ্যকে আরও বহুমুখী করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। মোদি বলেন, অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ মিনিটের বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ থাকা চাবাহার বন্দরের বিষয়টি আলোচনায় ওঠেনি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।
মোদি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিদ্যমান সংকট ও বিরোধের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির পথেই হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত-ইরান বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে এদিন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদি। ওই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধ, খনিজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত, ইরান, বাণিজ্য