বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান বাবলু আজ ১ সেপ্টেম্বর’২৬ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সরকারি চাকুরীজীবিদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি দেশের কোটি শ্রমিক, বিশেষ করে পোশাক ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অবিলম্বে মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বজলুর রহমান বাবলু বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগের জন্য মাননীয় সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারীদের পরিবারের আর্থিক স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু একই সাথে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি গার্মেন্টস শ্রমিক, ক্ষুদ্র জেলে ও অন্যান্য খাতের শ্রমিকরা এখনো চরম মূল্যস্ফীতির চাপে আছেন। দ্রব্যমূল্য, বাসা ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে বর্তমান মজুরি দিয়ে একটি পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।"
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের মজুরি কমিশন গঠন করে পোশাক শিল্প ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হোক। ন্যূনতম মজুরি সময়মতো পর্যালোচনা এবং বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়বে, যা উৎপাদন ও দেশের রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি ৩টি জরুরি করণীয় প্রস্তাব দেওয়া হলো:
(১) দ্রুত মজুরি পুনর্নির্ধারণ: গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি এবং ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য জীবিকা সহায়তা ভাতা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে।
(২) মূল্যস্ফীতি সমন্বয়: প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয় মজুরি সমন্বয় ব্যবস্থা চালু করা।
(৩) সামাজিক নিরাপত্তা: শ্রমিক ও জেলেদের জন্য স্বাস্থ্য, রেশন ও সন্তানদের শিক্ষা ভাতা নিশ্চিত করা।
বজলুর রহমান বাবলু বলেন, সরকার যদি সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি দেশ গড়ার আসল কারিগর শ্রমিকদের কথাও সমান গুরুত্ব দিয়ে ভাবে, তবেই একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খুব দ্রুত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।