খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে সার সংকট দূরীকরণ সহ কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধা বাড়াতে হবে

  • মাসুদুর রহমান মাসুদ
  • ২০২৬-০৯-০১ ১২:৩৪:২০
image

খাদ্য কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, এটা কি কৃষক মুখরিত শুধু স্লোগান?যে দেশের ৮০% মানুষ  কৃষক। কৃষি নির্ভর যে দেশ। অথচ সে দেশে কৃষকের সবচেয়ে বড় দূর্দশা বেহাল অবস্থা ।  দুঃখ এই যে কৃষক মাটির সাথে সংগ্রাম করতে করতে মাটির মতো নরম হয়ে গেছে।কৃষক সার,  কীটনাশক, তৈল ঠিকমতো না পেলে, কিভাবে করবে কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন?
মধ্যস্ততাভোগীরা অধিক মুনাফা লাভের  আশায় রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় কিংবা  সিন্ডিকেটের কোন প্রভাবে নমনীয় হচ্ছে প্রশাসন। ডিলারদের নির্ধারিত এলাকায় সার বিক্রি ও সংরক্ষণের কথা থাকলেও তারা বিক্রি করছে সার অন্যত্র অবস্থিত নিজস্ব গুদাম হতে।
পৃথিবীর অসংখ্য দেশে কৃষক আন্দোলন থাকলেও আমাদের দেশে তেমন একটা নেই ব্রিটিশ আমলে উপমহাদেশে কৃষকদের মাঝে বেশ কয়েকটি আন্দোলন হয়েছিল যার অন্যতম ছিল তেভাগা আন্দোলন,  এই আন্দোলনের  নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ সহ সেই সময়ের বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ।
আমাদের দেশে ১৯৯৫ সালে ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে ১৮৬ টাকা বস্তা প্রতি  সার ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল ফলে কৃষকদের মাঝে গড়ে উঠেছিল ক্ষোভের দানা  আর এই ক্ষোভ শেষে রুপান্তরিত হ'য়ে ওঠে   আন্দোলনে। পুলিশের গুলিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেই আন্দোলনে সারের জন্য প্রাণ দিতে  হয়েছিল ১৮ জন কৃষককে। 
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনই সজাগ হতে হবে যেন ডিলার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব কোন ভাবে বৃদ্ধি না পায়।
মৌসুম শুরুর আগেই মধ্যস্থতাভোগিরা ডিলারদের  কাছ থেকে অধিক  পরিমাণ সার  ক্রয় করে ফলে তৈরি হয়  কৃত্রিম সংকট।  ২৩শে আগস্ট ২০২৬ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী  উপজেলায় বিক্ষিপ্ত কৃষক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সার না পেয়ে ডিলারের অনুপস্থিতে বিরক্ত হয়ে গুদামের তালা ভেঙ্গে ১৯৫ বস্তা সার লুট করে, পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন   অভিযান চালিয়ে  ১২২ বস্তা সার উদ্ঘাটন করে।যদিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি কখনো কাম্য নয় দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।  সৃষ্ট  ঘটনাটি তদন্তের জন্য   উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত  কমিটি গঠন করা হয়েছে।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায় বাস্তবে দেশে কোন সার সংকট নেই এটি ডিলারদের একটা অপকৌশল, অধিক লাভের আশায় কৃষকদের মাঝে ছড়ানো হয়েছে   একটি গুজব যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে  এমন একটি  অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।সরকারের প্রতি আস্থা রেখে সার সংকট মোকাবেলা করার জন্য সরকারের   নীতি নির্ধারকদের কৃষক বান্ধব হয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।সরকারের ভাবমূর্তি কোনভাবেই যেন ক্ষুন্ন না হয়।অপশক্তি যেন এসব অনাকাঙ্ক্ষিত  ঘটনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে অরাজকতা  সৃষ্টি করতে না পারে। ভাবতে হবে কৃষক- ই হলো দেশের খাদ্য উৎপাদনের জনশক্তি। এদের দ্বারা উৎপাদিত খাদ্য দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে অন্ন যোগায়। 
কৃষিখাতে জিডিপিতে ১১ থেকে  ১৪% অবদান রয়েছে। মনে পড়ে যায় চাষী কবিতার কথা, সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা"।  
সার ও কীটনাশকের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে ফসলের উপযুক্ত ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে জলবায়ুর সমস্যার কারণে ফসলের ক্ষতি পূরণের জন্য কৃষককে ভর্তুকি প্রদান করতে হবে কৃষকদের লাভবান করতে হলে  জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে কৃষি পণ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকারী ভাবে ধান- গম ক্রয় করতে হবে।  দেশে পর্যাপ্ত সার থাকার পরও ডিলার ও মধ্যস্থতাভোগীদের কারণে তৈরি হচ্ছে এমন  কৃত্রিম সংকট। এরা স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ব্যক্তিদের দ্বারা ডিলারশিপ গ্রহণ করে। যারা তদারকীর দায়িত্বে রয়েছে তাদের তোয়াক্কা না করে  সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে যখন চাহিদা বেড়ে যায় তখন কৃষকদের  চড়া দামে সার কিনতে  হয়। এই অবস্থা যেন "মরার উপর খোঁড়ার ঘা "। 
চলতি আমন মৌসুমে খোলা বাজারে বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০  টাকা অধিক দামে সার ক্রয় করতে হচ্ছে ।
ধানের বাম্পার ফলন হলেও মধ্যস্থতা ভোগীদের  কারণে লাভের অংশ চলে যায় মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের পকেটে। এরূপ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষকরা উৎপাদন থেকে বিমুখ হবে, ফলে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যের অভাব দেখা দিবে।বাইরের দেশ থেকে আমদানি করে এর চাহিদা পূরণ করতে হবে। কমবে জিডিপির হার ও দেখা দিবে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সংকট। 

লেখক ও কবি 
পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও