নেপাল-চীনের বন্যায় মৃত্যু প্রায় ৭০০,নিখোঁজ তিন হাজার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-৩০ ০৮:৪৫:৩৫
image

নেপাল ও চীনে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ হিসাবে দুই দেশে প্রায় ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জন মারা গেছেন। একই সঙ্গে এখনো প্রায় তিন হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বহু বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
বন্যার পর সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত এলাকায় আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারে নেপালের উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তা বাড়িয়েছে। দেশটির দেওয়া সহায়তার পরিমাণ এখন ৩৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত বুধবার চীন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল বরফ ও পাথর নেমে আসে। এর ফলে নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাসুয়ায় নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০-এর বেশি
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের রাসুয়া এলাকায় এখনো ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
এদিকে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানায়, সেখানে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা কিছুটা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
চীনের নিখোঁজদের তালিকায় অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

নিখোঁজ বিদেশিদের বড় অংশ ভারতীয়
নেপাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেশটিতে এখনো ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পর্যটক ও বিভিন্ন কাজে নেপালে অবস্থানরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত ২৮৭ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে ৮৮ জনকে ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় নতুন করে বন্যা এবং হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মরদেহ শনাক্তে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল
নিহতদের পরিচয় শনাক্তে নেপালকে সহায়তা করতে ভারতের একটি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা স্পষ্ট হচ্ছে। দুর্গম ও ধ্বংসস্তূপে ঢাকা এলাকায় উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল বন্যা,হিমবাহ ধস,নিখোঁজ মানুষ