গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গতকাল রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি ও পানির তীব্র তোড়ে নদীপাড়ে ব্যাপক ধস নামে। এতে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন তীরবর্তী শত শত অধিবাসী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে নদীভাঙন শুরু হলে আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হঠাৎ নদীর পানির স্তরের ঊর্ধ্বগতি ও তলার ঘূর্ণিস্রোতের কারণে পাড়ের বড় বড় অংশ ধসে পড়তে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো কুঠিপাড়া এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে নদী তীরবর্তী এলাকায় কোনো সংস্কার বা স্থায়ী বাঁধের কাজ হয়নি। ১৯৯৬ সালে প্রথম ও পরবর্তীতে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মেয়াদে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পরবর্তীতে আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন কোনো স্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই ভাঙনঝুঁকিতে পড়তে হয় এখানকার বাসিন্দাদের।
ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা নূর আলম ইসলাম বলেন, রাতের ভাঙনে পুরো কুঠিপাড়া এলাকার মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো জোরালো বা দৃশ্যমান তৎপরতা চোখে পড়েনি। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
নাগরিক সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত অবহেলার শিকার হচ্ছেন। কুঠিপাড়া এলাকাকে নদীভাঙনের হাত থেকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।