নজরুল,তোমার আগুন এখনো জ্বলে

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৮-২৭ ১৭:২৩:২২
image

আজও কি শুনতে পাও,নজরুল-
বাংলার বুকের ভেতর
কোনো ক্ষুধার্ত শিশুর কান্না?
কোনো শ্রমিকের ঘামে ভেজা কপাল,
কোনো বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘশ্বাস,
কোনো মায়ের নীরব চোখে
জমে থাকা প্রশ্ন?

তুমি তো চলে গেছ-
তবু তোমার কলম যায়নি থেমে,
তোমার শব্দগুলো এখনো
শিকল ভাঙার শব্দ তোলে
অন্যায়ের অন্ধ কারাগারে।

তুমি বলেছিলে মানুষের কথা,
ধর্মের দেয়াল পেরিয়ে
মানুষের হাত ধরেছিলে মানুষেরই জন্য;
তোমার কাছে
হিন্দু-মুসলমানের আগে
মানুষের পরিচয়টাই ছিল বড়-
তাই আজও তোমার কবিতা
সম্প্রীতির ভাঙা সেতুতে
একটি জ্বলন্ত প্রদীপ।

তুমি বিদ্রোহ শিখিয়েছিলে-
কিন্তু ঘৃণা নয়;
তুমি আগুন জ্বেলেছিলে-
কিন্তু মানুষ পোড়ানোর জন্য নয়;
তোমার আগুন ছিল
অন্যায়ের শেকড় পোড়ানোর আগুন,
অন্ধকারের বুক চিরে
ভোরকে ডেকে আনার আগুন।

যে সমাজে
মানুষের কণ্ঠ বন্ধ করে
ক্ষমতার দরজা আরও উঁচু হয়,
সেখানে তোমার শব্দ
আজও দরজায় আঘাত করে-
'জাগো!
মানুষের পাশে দাঁড়াও!
অন্যায়ের সামনে মাথা নত করো না!'

তোমার বাঁশির সুরে
যেমন প্রেম জেগেছিল,
তেমনি তোমার বজ্রকণ্ঠে
কেঁপেছিল সাম্রাজ্যের প্রাচীর;
এক হাতে তুমি লিখেছ
প্রেমের গান,
অন্য হাতে তুলে নিয়েছ
বিদ্রোহের মশাল-
তাই তুমি শুধু কবি নও,
তুমি বাংলার বিবেকের
এক অনিঃশেষ উচ্চারণ।

আজ তোমার প্রয়াণ দিবসে
ফুল নিয়ে এসেছি-
কিন্তু জানি,
ফুলে তোমার প্রতি শ্রদ্ধা পূর্ণ হয় না।
তোমাকে শ্রদ্ধা করতে হলে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়,
ক্ষুধার্তের পাশে বসতে হয়,
নির্যাতিতের চোখের জল মুছতে হয়,
মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে হয়।

নজরুল,
তোমার শরীর থেমেছিল,
তোমার কণ্ঠ থেমেছিল-
কিন্তু তোমার বিদ্রোহ থামেনি।

যতদিন অন্যায় থাকবে,
ততদিন তোমার কবিতা জ্বলবে;
যতদিন বৈষম্য থাকবে,
ততদিন সাম্যের ডাক উঠবে;
যতদিন মানুষ মানুষকে
ভালোবাসতে ভুলে যাবে,
ততদিন তোমার মানবতার গান
ফিরে ফিরে আসবে।

তুমি নেই-
তবু আছো
একটি প্রতিবাদী মুষ্টিতে,
একটি মুক্ত কণ্ঠে,
একটি ক্ষুধার্ত শিশুর অধিকারে,
একটি নিপীড়িত মানুষের সাহসে,
একটি তরুণের স্বপ্নে
এবং অন্যায়ের সামনে
নির্ভীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।

'কাজী নজরুল ইসলাম-
তোমার মৃত্যু নেই;
তুমি যতদিন মানুষের,
ততদিন বাংলার আকাশে
তোমার বিদ্রোহের সূর্য
অস্ত যাবে না।'

প্রয়াণ দিবসে
বিদ্রোহী কবির প্রতি
অশেষ শ্রদ্ধা।