ভোরের কুয়াশা নামে নীরব ধানের সবুজ প্রান্তরে,
শিশিরের ভিতর জেগে ওঠে অচেনা এক পাখির গান।
দূরের নদী বয়ে যায়—মাটির গন্ধ মেখে ধীর পায়ে,
তার জলে ভাসে রৌদ্র, ভাসে শাপলার নরম অভিমান।
তালগাছের ছায়া পড়ে নিঃসঙ্গ গ্রামের মেঠো পথে,
বাঁশবনের ফাঁকে ফাঁকে বাতাস খেলে যায় চুপিচুপি।
কাশফুল দোলে যেন সাদা কোনো স্বপ্নের ভিতরে,
জোনাকিরা রেখে যায় রাতের শেষ আলোটুকু রূপী।
নদীর ওপারে জেগে ওঠে গরুর গাড়ির ক্ষীণ শব্দ,
কিশোর রাখালের বাঁশি মিশে যায় কুয়াশার শরীরে।
পুকুরপাড়ে কলমিলতা জলের কাছে মাথা নত করে,
বক দাঁড়িয়ে থাকে একা—নির্জন নীলিমার তীরে।
আম্রকুঞ্জে রোদ নামে পাকা পাতার মৃদু গন্ধ নিয়ে,
শালিকেরা ব্যস্ত হয়ে খুঁজে ফেরে দিনের প্রথম অন্ন।
কোথাও ধানের শীষে বাতাস লিখে যায় অদৃশ্য কবিতা,
কোথাও মাটির ঘরে জ্বলে ওঠে মানুষের আপন জীবন।
এই দেশ শুধু নদী নয়, শুধু মাঠ নয়, শুধু পাখির ডাক—
এর বুকের গভীরে ঘুমিয়ে আছে সহস্র দিনের স্মৃতি।
সন্ধ্যা নামলে বাংলার আকাশে জ্বলে এক নরম তারা,
আর আমার মন ফিরে যায় এই মাটির কাছেই—নীরব, অনন্ত, অমিতি।