ধরলার ভাঙনে নিঃস্ব চর কদমতলা ও চর নওয়াবশের মানুষ

  • কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • ২০২৬-০৮-২৫ ১৪:৩৭:৪৯
image

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের চর কদমতলা ও চর নওয়াবশ গ্রামের বুক চিরে বয়ে চলেছে ধরলা নদী। আয়তনে খুব বড় না হলেও দীর্ঘদিনের ভাঙনে নদীটি কেড়ে নিয়েছে এ দুই চরাঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বছরের পর বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা।
সোমবার সকালে চর নওয়াবশ ও চর কদমতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে ভেসে আসা ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহে ব্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। কারও বসতভিটা নদীতে চলে গেছে, কেউবা শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে ব্যস্ত। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার এখন নদীর কিনারায় অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছে।
চর নওয়াবশের বাসিন্দা মো. নুরনবী মিয়া (৫৬) বলেন, তাঁর বসতবাড়ি ধরলা নদীর ভাঙনে এ পর্যন্ত প্রায় আটবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাদি জমিজমার প্রায় সবই নদীগর্ভে চলে গেছে। নিঃস্ব হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে এখন নদীর তীরে ঘর তুলে মাছ ধরে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
তবে নদীতে মাছও তেমন পাওয়া যায় না বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, ধরলা নদীর দক্ষিণ অংশে পানির গভীরতা কম হওয়ায় মাছের বড় একটি অংশ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র নদে চলে যায়। ফলে ধরলাপাড়ের জেলেদের জালেও আগের মতো মাছ ধরা পড়ে না। এতে অনেক পরিবারকে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরাঞ্চলের মানুষের দুর্দশা দীর্ঘদিনের হলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ খুবই সীমিত। এসব এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে নদীভাঙনের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকার সংকটও তাদের নিত্যসঙ্গী।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে ধরলার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলে সড়ক, শিক্ষা ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়া মানুষের জীবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে।

ধরলা, ভাঙন, চরাঞ্চল