কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তাপ,ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে বাড়ছে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-২৩ ২৩:৩০:২৮
image

দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কয়েক দফা আলোচনার পর সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কানাডার ঘোষিত নতুন শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও দুগ্ধজাত পণ্যকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হবে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কার্নি।
শনিবার অটোয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার শুরুতে কিছুটা অগ্রগতি হলেও শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও অন্যায্য। ফলে প্রস্তাবিত সমঝোতা মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প কানাডার অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে। তবে একই সঙ্গে কানাডার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি এবং কার্নির সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে শুক্রবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়। এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের তালিকায় হকি সরঞ্জাম থেকে সিমেন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত মেনে কানাডা কোনো চুক্তিতে যাবে না। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্কের বাস্তবতা বদলে গেছে এবং কানাডাকে দক্ষিণের প্রতিবেশীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজতে হবে।
কানাডার পাল্টা শুল্কের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডার পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন এগোচ্ছে। আপাতত কানাডার আলোচকদের সঙ্গে নতুন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।
বাণিজ্য বিরোধের পেছনে গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, মদ ও দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কানাডা কিছু মার্কিন পণ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে কানাডার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক দেশটির অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের বিদ্যমান উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার ট্রাম্পের মন্তব্যও দুই দেশের সম্পর্কে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
কানাডার প্রায় ৭০ শতাংশ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর হওয়ায় এই বাণিজ্য সংঘাত দেশটির জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজনৈতিক নেতারাও শুল্কনীতির বিরোধিতা করছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে নতুন করে আলোচনার পথ খোলা থাকবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কানাডা, শুল্ক, বাণিজ্যযুদ্ধ