শিশুদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে শিক্ষার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, ইভটিজিংসহ নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে তাদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে খেলার আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের শৃঙ্খলা, সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখাতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খেলার সময় শিশুদের মধ্যে নিয়ম মেনে চলা, অন্যকে সম্মান করা, দলগতভাবে কাজ করা এবং জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এসব মূল্যবোধ পরবর্তী জীবনে তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান, যারা ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সেই সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শেখানোর লক্ষ্যেই ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। চলতি সময়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে কার্যক্রমটি শুরু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি প্রথম শ্রেণি থেকেই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, শুধু মাঠে খেলাধুলা করলেই হবে না; খেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিক্ষণীয় বিষয়গুলোও শিশুদের সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। খেলাকে শ্রেণিকক্ষের বাইরের একটি কার্যকর শিক্ষামাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা গেলে শিশুদের শেখার আগ্রহ আরও বাড়বে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৮ সালের নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের জন্য আগামী সপ্তাহে একটি কমিটি গঠন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলার বিষয়টি নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের কীভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে তার ওপর। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চার সমন্বয়ে শিশুদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
খেলাধুলা, শিশুশিক্ষা, নেতৃত্ব