ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিন শ্রমিক এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অলকানন্দা নদীর তীরে নির্মাণাধীন বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ২৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, প্রবল পানির স্রোতের সঙ্গে ভূমিধসের ফলে সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে পানি ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে প্রশাসন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে পৌঁছে জীবিত শ্রমিকদের সন্ধান ও নিরাপদে বের করে আনার জন্য কাজ করছেন। দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
এদিকে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন, কারণ আহতদের মধ্যে ওই দুই রাজ্যের বাসিন্দাও রয়েছেন।
পুষ্কর সিং ধামি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
অলকানন্দা নদীর তীরে নির্মাণাধীন বিষ্ণুগড়-পিপলকোটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি টিএইচডিসি ইন্ডিয়ার উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর প্রকল্প এলাকায় নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
উত্তরাখণ্ড, সুড়ঙ্গ ধস, শ্রমিক নিহত