বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় বিবেচনা স্থান পায়নি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
বৈঠকে বিরোধী দলের দুই সদস্য উপস্থিত থাকলেও পুলিশের নিয়োগ নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানা গেছে।
এদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাদক ও জুয়াকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
সংসদ সদস্যরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা উল্লেখ করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে জানানো হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে মোবাইল আদালত পরিচালনা, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুয়া প্রতিরোধেও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তারা তুলে ধরেছিলেন। জবাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।
বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।
কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, কামরুজ্জামান, মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ নিয়োগ, স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলা