বাংলাদেশে সবার পরিচয় বাংলাদেশি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-১১ ২০:৩৯:২০
image

ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, দেশের সব নাগরিকই বাংলাদেশের অধিবাসী এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকের সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাকটস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসরত সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষের জাতীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশি’-এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সর্বসম্মত অবস্থান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংবিধান সুরক্ষা দিয়েছে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও বিকাশে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের মূলধারার সঙ্গে সমতার পর্যায়ে আনতে বিশেষ সুবিধা ও কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বিভিন্ন বহুভাষী ও বহুজাতিক দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশে বহু ভাষা প্রচলিত থাকলেও পৃথক ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। বরং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে জাতীয় মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ডিক্লারেশন অন দ্য রাইটস অব ইনডিজিনাস পিপলস’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৃহীত ওই ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুরু থেকেই নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ওই ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ ভোটদানে বিরত ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ওই আন্তর্জাতিক ঘোষণা কিংবা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৬৯ নম্বর কনভেনশন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং বাংলাদেশ এর অংশীদারও নয়।
আলোচনায় সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
এ ছাড়া আলোচনায় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) রাশেদ খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশি, জাতীয় পরিচয়, সাংবিধানিক অধিকার