রোমে শান্তি আলোচনা চলাকালেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা,নিহত দুই ইসরাইলি সেনা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০৭ ০০:০৯:৫২
image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতালির রাজধানী রোমে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে এক মাসেরও বেশি সময় পর দক্ষিণ লেবাননে দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, নিহতরা হলেন ৫৫তম ব্রিগেডের ২৮৫৫তম ব্যাটালিয়নের মেজর হারেল বিরেনস্টক (৩৪) এবং সার্জেন্ট মেজর তামির ভাকনিন (৩৩)। গত ২৮ জুনের পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
নতুন অভিযানের আগে দক্ষিণাঞ্চলের মানসুরি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পরে বাহিনীটি জানায়, হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোমে চলমান আলোচনায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা আগেই বৈঠক শেষ করার অনুরোধ জানায় ইসরাইল। দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার লেবাননের বিরুদ্ধে আলোচনাসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনার শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচনায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
মার্চে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরাইলের ৩৮ জন সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, সহিংসতা কিছুটা কমে আসায় বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করলেও এখনো তিন লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।
এদিকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে হিজবুল্লাহর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে তেহরানের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করে অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নেও অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রোমে শান্তি আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 ইসরাইল, লেবানন, শান্তি আলোচনা