জুলাইয়ের আত্মত্যাগের ঋণ শোধে শহিদ পরিবার ও আহতদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-০৫ ২২:৩৬:০৬
image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, শহিদদের আত্মদান ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করবে এবং তাদের পরিবারের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব অবিচ্ছেদ্য।
বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং শহিদ পরিবারের সার্বিক দেখভাল নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা, শিশু রিয়া গোপ, আহাদসহ সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাদের আত্মত্যাগকে জাতির গৌরব হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তব্যে আহত এক তরুণকে তার মায়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য যারা দৃষ্টিশক্তি বা শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের ন্যায্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হবে না এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্মান ও সহায়তা প্রদানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণকে সরকারের কার্যক্রমে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মতের পার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে। বিভাজন, বিদ্বেষ কিংবা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ যেন দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শহিদ পরিবার, পুনর্বাসন