ট্রাম্পের নতুন কৌশল: শর্তসাপেক্ষে ইরান হামলা স্থগিত,কূটনৈতিক সমাধানে জোর

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০৩ ০০:১১:৪৮
image

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে দ্রুত একটি সমঝোতা হলে নতুন সামরিক হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি ভেস্তে গেলে সামরিক বিকল্প এখনো প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তেহরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিতে তিনি হামলার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের নিরাপত্তা এবং একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর চুক্তি সম্ভব হলে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকা হবে। একই অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েলও।
ট্রাম্পের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির স্থায়ী অবসান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চললেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। এর আগে একই ধরনের শর্তে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এবং উভয় পক্ষ পুনরায় হামলা শুরু করে।
সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বানের পর সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত এলাকা ত্যাগের প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ দুর্বল করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এখনো পাল্টা ক্ষয়ক্ষতি করার সামর্থ্য ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবং মিশরের একটি বন্দরে মার্কিন মালিকানাধীন গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলার।

ট্রাম্প, ইরান, হরমুজ প্রণালি