মধ্যস্থতায় মামলাজট কমানোর ওপর জোর আইনমন্ত্রীর,৪৫ লাখ মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন আশাবাদ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-০২ ০৯:৩৩:১২
image

মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিকে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অন্যতম উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এ পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগ হলে দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা একটি কার্যকর ব্যবস্থা। সরকারের লক্ষ্য দরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের জন্য সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একজন দক্ষ মধ্যস্থতাকারীর জন্য কেবল আইনি জ্ঞান যথেষ্ট নয়; মানবিকতা, ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সমাধান তৈরির সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি জাপানের ‘জাস্টিস উইথ এ স্মাইল’ গ্রন্থটি পড়ার আহ্বান জানান।
আইনজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সমঝোতার ক্ষেত্রে আইনজীবীরা অনাগ্রহী—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। দেশে ও বিদেশে বহু সফল মধ্যস্থতা ও সালিশে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষ মানসিক চাপ ও শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাই হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সেরা একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ দক্ষ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী তৈরিতে সহায়ক হবে।
তিনি জাপান সরকার, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এবং কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও আইনজীবী মাসাকো মিয়াতাকেসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ও সহজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. খাদেমউল কায়েসের সভাপতিত্বে জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবীসহ ৪০ জন অংশ নেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতার মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ, সমঝোতা পরিচালনা, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক মাসাকো মিয়াতাকে।

মধ্যস্থতা, মামলাজট, ন্যায়বিচার