রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত ১; আরও হামলার আশঙ্কায় সতর্ক জেলেনস্কি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-৩১ ১০:৪৮:১৮
image

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরজুড়ে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও বিমান হামলার সতর্কসংকেতের মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া রাতের মধ্যেই বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানা যায়, কিয়েভ সিটি সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে এক বার্তায় একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাজধানীতে হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার ফলে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছেন।
এদিকে, এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, হামলার আগে রাজধানীজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। কিছুক্ষণ পর পরই একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, কয়েক দিন ধরেই রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই হামলা রাতেই শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি দেশজুড়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিমান হামলার সংকেত পেলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে।
একই সঙ্গে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি আবারও ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। একই সময় রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রযুক্তি। তবে ইউক্রেনের হাতে থাকা পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ সংকট আরও গভীর হয় ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর, যখন একই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বৈশ্বিক চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ইউক্রেন, কিয়েভ, রাশিয়া