'বৃষ্টির পর রঙধনুর গোপন বার্তা'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৭-২৯ ২২:৫২:১৯
image

বন্ধুরা,আজ শুরু হচ্ছে নতুন রহস্য,নতুন বিস্ময়। এবার প্রকৃতি আমাদের নিয়ে যাবে আকাশের দিকে, যেখানে বৃষ্টি আর সূর্যের আলো মিলে আঁকে রঙধনুর অপূর্ব ছবি।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'
পর্ব-৪৩:

সারাদিনের টানা বৃষ্টির পর বিকেলের আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে এল।
গাছের পাতায় জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা সূর্যের আলোয় মুক্তোর মতো ঝিলমিল করছে।

রাহি উঠোনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,
-'অরণ! শিসু! তাড়াতাড়ি এসো!'

দুজন ছুটে এসে আকাশের দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে গেল।
পূর্ব আকাশে রঙের বিশাল এক বাঁক।
লাল...
কমলা...
হলুদ...
সবুজ...
নীল...
জামুনি...
আর বেগুনি...

শিসু মুগ্ধ হয়ে বলল,
-'কে আকাশে এত সুন্দর ছবি আঁকল?'

ঠিক তখনই বাতাসে বটপাতার মৃদু শব্দ ভেসে উঠল।
বটদাদুর কণ্ঠ বলল,
-'প্রকৃতি কখনো তুলি দিয়ে ছবি আঁকে না। সে আলো আর পানির বন্ধুত্ব দিয়ে রঙের গল্প লিখে।'

অরণ কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
-'তাহলে রঙধনু কি সত্যিই আকাশে থাকে?'

বটদাদু মৃদু হেসে বললেন,
-'না। রঙধনু আসলে আলো আর অসংখ্য বৃষ্টির ফোঁটার মিলিত খেলা।'

রাহি একটি বৃষ্টির ফোঁটা হাতের তালুতে নিয়ে তাকিয়ে রইল।
'এত ছোট্ট একটি ফোঁটার মধ্যে এত রঙ লুকিয়ে থাকতে পারে?'

ঠিক তখনই পাশের বাড়ির বিজ্ঞান শিক্ষক নাসির স্যার ছাতা হাতে হাঁটতে হাঁটতে সেখানে এলেন।
তিনি বললেন,
-'সাদা সূর্যের আলো আসলে অনেক রঙের সমষ্টি। বৃষ্টির ফোঁটার ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় সেই রঙগুলো আলাদা হয়ে আমাদের চোখে ধরা পড়ে।'

শিসু বিস্ময়ে বলল,
-'তাহলে প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটাই যেন ছোট্ট একটি জাদুর কাঁচ!'

স্যার হেসে বললেন,
-'জাদু নয়,বিজ্ঞান। আর বিজ্ঞানের মধ্যেই প্রকৃতির সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে থাকে।'

ঠিক তখনই রাহির চোখে পড়ল, রঙধনুর নিচে মাঠে কয়েকটি শিশু খেলছে।
তাদের হাসি যেন রঙধনুর রঙের সঙ্গে মিশে গেছে।

অরণ খাতায় লিখল,
'প্রথম সূত্র-রঙধনু সৃষ্টি হয় সূর্যের আলো আর বৃষ্টির ফোঁটার মিলনে।'

শিসু লিখল,
'দ্বিতীয় সূত্র-প্রকৃতির সৌন্দর্যের পেছনেও বিজ্ঞানের গল্প থাকে।'

হঠাৎ একটি প্রজাপতি ভেজা ফুলের ওপর এসে বসল।

রাহি মৃদু হেসে বলল,
-'আজ মনে হচ্ছে,পুরো পৃথিবীটাই রঙে রঙে ভরে গেছে।'

বটদাদুর কণ্ঠ আবার ভেসে এলো,
-'যে শিশু প্রকৃতির রঙকে ভালোবাসে,সে কখনো পৃথিবীকে ধূসর হতে দেয় না।'

সূর্য একটু নিচে নামতেই রঙধনুর রঙগুলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গেল।
কিন্তু তিন বন্ধুর মনে একটি নতুন প্রশ্ন জন্ম নিল।
রঙধনু কি শুধু পৃথিবীতেই দেখা যায়?
নাকি প্রকৃতির আরও কোনো গোপন রহস্য তাদের জন্য অপেক্ষা করছে?

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করব, কিন্তু তা নষ্ট করব না। পরিবেশকে পরিষ্কার ও সবুজ রাখতে নিজের দায়িত্ব পালন করব।

সবুজ তথ্যঃ
রঙধনু দেখা যায় তখনই,যখন সূর্যের আলো পর্যবেক্ষকের পেছন থেকে এসে সামনের বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর ভেতর দিয়ে প্রতিসরিত, প্রতিফলিত ও বিচ্ছুরিত হয়। তাই একই রঙধনু দুইজন মানুষ ঠিক একইভাবে দেখে না।

চলবে...

বন্ধুরা, আজকের পর্বে আমরা বিজ্ঞান,প্রকৃতি ও কল্পনাকে একসঙ্গে মিলিয়েছি। তোমাদের কাছে রঙধনু আর শুধু একটি সুন্দর দৃশ্য থাকবে না; এটি হবে প্রকৃতির বিজ্ঞানকে ভালোবাসার একটি দরজা। আগামীকাল পর্ব-৪৪-এ রাহি, অরণ ও শিসু রঙধনুর শেষ প্রান্তের রহস্য খুঁজতে বের হবে,আর সেই অভিযানে তারা শিখবে-প্রকৃতির সবচেয়ে বড় ধন কোনো সোনার হাঁড়ি নয়,বরং জ্ঞান ও কৌতূহল।