যে মানুষগুলো এখনো হেরে যায়নি

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৭-২৯ ০৯:৫০:১২
image

(উৎসর্গঃ বিউটি  পাল সহ সকল মেহনতি শিক্ষকদের) 

দেশটা বদলায়নি-
শুধু শহরের কাঁচের দেয়ালগুলো
আরও উঁচু হয়েছে।

আর গ্রামের স্কুলগুলো
এখনও বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে
সকালের ঘণ্টা বাজায়।

সেখানে একজন শিক্ষক
দরজা খুলে ঢোকেন
পদবী নিয়ে নয়,
এক বুক অসম্ভব জেদ নিয়ে।

তাঁর পকেটে প্রণোদনার চিঠি নেই,
হাতে দামি ল্যাপটপ নেই,
তবু তিনি বোর্ডে লিখে দেন-
Dream. Hope. Future.

শিশুরা তখন
ইংরেজি শেখে না শুধু,
শিখে-
দারিদ্র্য কোনো ভাষা নয়।

একদিন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ মাঠে
গান গেয়েছিল,
স্বপ্নকে আকাশের মতো বড় ভেবেছিল,
আজ তারাই
টিনের চালের নিচে দাঁড়িয়ে
জাতির ভবিষ্যৎ বানায়।

তাদের হাসিকে
অনেকে পাগলামি বলে।

কারণ এই সময়ে
মানুষ লাভ বোঝে,
তারা ভালোবাসার হিসাব বোঝে না।

এই সময়ে
ডিগ্রির দাম আছে,
কিন্তু জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দেওয়া মানুষের
কোনো বাজারমূল্য নেই।

তবুও তারা থামে না।

কারণ তারা জানে-
একটি শিশুর হাতে
যেদিন প্রথম বই ওঠে,
সেদিনই
একটি অন্ধকার বংশের ইতিহাস বদলাতে শুরু করে।

রাষ্ট্র হয়তো
তাদের নাম মনে রাখবে না।

সংবাদপত্রও
তাদের নিয়ে শিরোনাম করবে না।

কিন্তু ভবিষ্যৎ
যখন নিজের জন্মের গল্প লিখবে,
সেখানে বড় অক্ষরে লেখা থাকবে-

'কিছু মানুষ ছিল,
যারা চাকরি করেনি-
মানুষ গড়েছিল।'

আমি সেইসব মানুষের পক্ষেই দাঁড়াই।

যারা পদোন্নতির সিঁড়ি নয়,
স্বপ্নের সিঁড়ি বানায়।

যারা বেতনের অঙ্কে নয়,
শিশুর চোখের দীপ্তিতে
নিজেদের সফলতা মাপে।

যারা জানে-

একটি ভালো শিক্ষকই
একটি জাতির সবচেয়ে নীরব বিপ্লব।

আর পৃথিবীর সব বিপ্লবের মতোই
এই বিপ্লবও শুরু হয়-
একটি ছোট্ট শ্রেণিকক্ষ থেকে।